জাবেদ শেখ জেলা, প্রতিনিধি শরীয়তপুর:
পদ্মা সেতুকে ঘিরে পরিবেশ সংরক্ষণ, পর্যটন বিকাশ ও ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্য নিয়ে শরীয়তপুরের নাওডোবায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং পদ্মা সেতু জাদুঘরের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) সকালে পদ্মা সেতু-এর নাওডোবা প্রান্তে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, সেতু বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেখ রবিউল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মোহাম্মদ রাজিব আহসান, মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু, মোহাম্মদ শফিকুর রহমান কিরণ এবং সাঈদ আহমেদ আসলাম।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাহসিনা বেগম। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ-এর সচিব ও নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রউফ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ স্লোগানে আয়োজিত এ কর্মসূচির আওতায় পদ্মা সেতু এলাকার বিভিন্ন স্থানে নানা প্রজাতির গাছ লাগানো হবে বলে জানানো হয়। আয়োজকরা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরে অতিথিরা পদ্মা সেতু জাদুঘরের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাদুঘরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ ইতিহাস, বিভিন্ন ধাপের ছবি, প্রকৌশল নকশা, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী এবং তথ্যচিত্র সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাও রাখা হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ রবিউল আলম বলেন, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতার প্রতীক। জাদুঘর নির্মিত হলে নতুন প্রজন্ম দেশের উন্নয়নের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।
বক্তারা আরও বলেন, পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জাদুঘর নির্মাণের মাধ্যমে সেই সম্ভাবনা আরও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, সেতু বিভাগের প্রকৌশলী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শেষে অতিথিরা বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে অংশ নেন এবং জাদুঘরের নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পদ্মা সেতুকে ঘিরে সরকারের এমন উদ্যোগে তারা আনন্দিত। তাদের আশা, ভবিষ্যতে এই জাদুঘর দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হবে।

