মোঃ এ কে নোমান, নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পতিসরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসবমুখর পরিবেশ ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত পতিসর কাচারিবাড়ি প্রাঙ্গণজুড়ে দিনভর আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্মৃতিচারণ ও রবীন্দ্রচর্চার নানা আয়োজনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) বেলা ১১টার দিকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্টজন, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বিপুল সংখ্যক রবীন্দ্রপ্রেমীর উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় এক অনন্য সাংস্কৃতিক আবহ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় অসামান্য অবদানের কারণেই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বব্যাপী অনন্য মর্যাদা অর্জন করেছেন। তাঁর সাহিত্যকর্মের গভীরতা, মানবিক দর্শন ও সৃষ্টিশীল প্রতিভাই তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করেছে।
তিনি বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু একজন কবি নন, তিনি ছিলেন একজন দার্শনিক, সমাজচিন্তক ও মানবতার কণ্ঠস্বর। কবিতা, গান, নাটক, উপন্যাস ও প্রবন্ধে তাঁর অসাধারণ সৃষ্টিশীলতা বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।”
বক্তৃতায় কবিগুরুর কৃষিভাবনা ও গ্রামীণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, পতিসরের কৃষক ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা এ অঞ্চলের কৃষি ও সমবায় ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি আরও বলেন, “পতিসরের নিসর্গঘেরা শান্ত পরিবেশেই কবিগুরু রচনা করেছিলেন ‘আমাদের ছোট নদী’ ও ‘তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে’-এর মতো কালজয়ী সাহিত্যকর্ম। তাঁর সাহিত্য, গান ও দর্শন আজও মানুষকে মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও সৌন্দর্যের শিক্ষা দেয়। ‘গীতাঞ্জলি’র মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন।”
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, সরকার দলীয় হুইপ অ্যাড. এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাবেক রাষ্ট্রদূত এম. মুশফিকুল ফজল আনসারী, রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজান, সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাঃ হারুন অর রশীদ, নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এবং নওগাঁ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু।
এসময় অনুষ্ঠানের আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. মো. হারুন অর রশীদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, এনামুল হক, ফজলে হুদা, ইকরামুল বারী টিপু, জাহিদুল ইসলাম ধলু-সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিপুল সংখ্যক রবীন্দ্রানুরাগী।
আলোচনা সভা শেষে ঢাকা ও স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় মনোমুগ্ধকর রবীন্দ্রসংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যানুষ্ঠান। পুরো আয়োজনজুড়ে কবিগুরুর সাহিত্য, দর্শন ও মানবিক চেতনার আলোকে একটি আধুনিক, প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।

