কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজা তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও এলাকার অপকর্মকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সোমবার (৪ মে) রাতে দেওয়া এই পোস্টে তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার পাশাপাশি উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টিকারীদের ‘কুচক্রী মহল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
মুফতি আমির হামজা তাঁর পোস্টে অভিযোগ করেন যে, তিনি যখনই কুষ্টিয়াবাসীর কল্যাণে কোনো কাজ শুরু করছেন, তখনই একটি বিশেষ মহল প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে তাঁর পথ আটকানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন:
“তাদের হাতে কোনো কল্যাণকর রাজনীতি নেই। মানুষের জন্য ভালো কিছু করার সক্ষমতা হারিয়ে তারা এখন আমার পথ আটকানোকেই একমাত্র রাজনীতি বানিয়ে ফেলেছে।”
এমপি হওয়ার পর এলাকার অপরাধ জগতের সমীকরণ বদলে গেছে উল্লেখ করে তিনি লেখেন, আগে যারা নির্বিঘ্নে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি এবং মাদকের সাম্রাজ্য চালাত, তারা এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। এই অপকর্মের সাম্রাজ্য ধ্বংস হওয়ার ভয়েই তারা তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
ভোটারদের দেওয়া ‘আমানত’ রক্ষায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত জানিয়ে আমির হামজা লেখেন:
“কুষ্টিয়াবাসী শান্তিতে বসবাসের জন্য যে দায়িত্ব আমার কাঁধে তুলে দিয়েছে, তা রক্ষায় আমি পিছুপা হবো না।”
তিনি কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে সম্মিলিতভাবে এই অপশক্তিকে পরাজিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আলোচিত এই ইসলামি বক্তা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই কুষ্টিয়ার স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে সনাতনী ধারার রাজনীতিকদের বাইরে এসে একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের এই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জনমনে যেমন ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে, তেমনি প্রতিপক্ষ শিবিরে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা।
মুফতি আমির হামজার এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর অনুসারীরা একে ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে দেখলেও বিরোধীরা একে দেখছেন রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে।

