সম্মানিত ফেসবুক পোস্টকারী ভাই ও বন্ধুগণ আসসালামু আলাইকুম,চলমান কৃষি মৌসুমে হাওরাঞ্চলের দুর্ভোগ নিয়ে আপনারা যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুখ রোচক পোস্ট করে কৃষক প্রিয়তা ও নামী দামী হওয়ার চেষ্টায় জনপ্রিয়তা অর্জন করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের প্রতি হাওরাঞ্চলের একজন সামান্য কৃষক হিসেবে অনুরুধের সহিত আমার দুটি কথা।
আপনারা বেশী বেশী লাইক,কমেন্ট ও শেয়ার পাওয়ার আশায় কৃষকদের বিপদের দিকে ঠেলে দিয়েন’না।এমনিতেই প্রাকৃতিক বৈরী আচরণের স্বীকার হয়ে কৃষকের জীবনের প্রায় আট আনাই শেষ হয়েগেছে।বাকী আট আনা আপনার ইচ্ছে মতো পোস্ট দিয়ে খাইয়েন না।যদি প্রশ্ন রাখেন-কিভাবে খাইতে পারি?বাস্তব সত্য এটাই যে,চৈত্রের শুরুতেই যখন বৃষ্টি শুরু হলো তখন থেকেই হাওরে জলাবদ্ধতা হতে লাগলো।আপনারা পোস্টশুরু করলেন অপরিকল্পিত বেরি বাঁধ।কিন্তু পরিকল্পিত কি! তা কিন্তু তেমন কেউ উল্লেখ করেননি।আবার বৈশাখের শুরুতে যখন বোরোধান পাকতে শুরু হলো!তখন প্রচার করলেন কৃষকের সকল জমি পানির নিচে চলে গেছে।
কেউকেউ আবার জমির দৃশ্য ক্যামেরায় বন্ধী করে পোস্ট করেছেন।আমার কথা হলো!হাওরপাড়ের সন্তান হয়ে আপনি হাওরের জমির শ্রেণী বিন্যাস করেননি।সাধারনত একটি হাওরে তিনটি শ্রেনীর জমি থাকে নিচু জমি,মাঝারি উচু জমি এবং তুলানা মুলক উচু জমি।কিন্তু আপনারা সকল জমিকে এক পর্যায়ে নিয়ে প্রচার করেছেন।যাহারা প্রচার করেছেন তাদের প্রতি আমার জিজ্ঞাসা,আমাদের হাওর গুলোকি কি সমতল?নাকি উচু থেকে ক্রমন্বয়ে নিচের দিকে এসেছে?আপনাদের এমন একতরফা প্রচারে কি হয়েছে জানেন?হাওরের মাঝারি ও উচু জমি গুলোর ধান কাটতে আসা মেহেরপুর,সিরাজগঞ্জ, রংপুর সহ দেশের বিভিন্ন জেলার হার্বেস্টার মালিকগণ চুক্তি বদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে।শত অনুরুধের পরেও তারা আমাদের এলাকায় ধান কাটতে আসেনি।
এদিকে সরকারিভাবে প্রচার হলো বন্যার পুর্বাভাস, দ্রুত ধান কেটে ফেলুন।”কাটতে পারলে ধান,বাচবে মোদের প্রাণ”এই প্রত্যাশায় কৃষক ছুটাছুটি করতে লাগলো।এরমধ্যে অগ্রিম টাকা নেয়া যে’কয়েকটা হার্বেস্টার মেশিন ধান কাটতে এসেছিলো।তাও আবার জমির তুলনায় অপ্রতুল।কিছু কিছু আবার বিকল হয়ে পরে রইলো।সৃষ্টি হলো ধান কাটার শ্রমিক সংকট।
আমার অনুরুধ হাজার হাজার পোস্ট কারীর মধ্যে একজন আমাকে বলুন, হে,ভুক্তভোগী কৃষক আমি অন্যান্য জেলার হার্বেস্টার মালিক এবং শ্রমিক ভাইদের অনুরুধ করে পোস্ট করেছি যে,দয়া করে আপনাদের হার্বেস্টার এবং শ্রমিক ভাইয়েরা এসে আমার এলাকার ধান কর্ত্তন করতে সাহায্য করুন।মনে হয় কেউ দেখাতে পারবেন না।ধান ডুবেগেছে প্রচার করে দেখাতে গেলেন দরদ, পক্ষান্তরে কৃষকের গেলো বাঁশ!হার্বেস্টার প্রতি ৩২শতক জমির ধান কাটতে নিলো ৫থেকে ৭হাজার টাকা।শ্রমিকেরা দৈনিক মুজুরী নিলো ১২শত থেকে১৫শত টাকা।তাও আবার সোনার হরিণের ন্যায়।আমার অনুরোধ রইলো মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে দেখুন হার্বেস্টার ও শ্রমিকের অভাবে কি পরিমান পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।আমার মনে হয় এগুলো আপনাদের আর প্রচার করার প্রয়োজন নাই।কারণ-এমন যে হবে দয়াময়ের দয়ায়,আপনারা তা আগেই প্রচার করে ফেলেছেন।
এমন অনেক বিষয় নজরে আসলেও ফসল হারানোর সুখ,তার উপর আবার আমার মতো সাদামাটা কৃষকের হাতের কলম আর চলতে চাইছে না।তারপরেও আপনাদের অনুরোধ করবো সটিক তথ্য প্রচার করুন।সমস্যা গুলো চিহ্নিত করে সটিক সমাধানের পথ আবিষ্কার করুন।কে হাততালি দিয়ে কৃষককে উপহাস করলো,আর কে চোখের জলে বুক ভাসিয়ে দরদ দেখালো তা কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের কৃষক কিছুটা হলেও বুঝতে পারে।কারণ বর্তমান সময়ের কৃষক পুর্বের মোটা কাপড় পরিহিত কৃষক নয়।
বর্তমান কৃষক প্রজন্ম কবি রাজিয়া খাতুন চৌধুরনী’র ভাষায়”সব সাধকের বড় সাধক,আমার দেশের চাষা”।সুতরাং আসুন সমালোচনা নয়,মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে হাওরে জমির শ্রেণী অনুযায়ী আগাম জাতের ধান রোপন করি।আল্লাহই উত্তম ফয়সালাকারী।
নিবেদক
(ভুক্তভোগী কৃষক)
মোঃমনিরুজ্জামান (মনি)
পিং-মৃত আঃহক
গ্রামঃশালিয়ানী
মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ।
মোবাইল নাম্বারঃ০১৭১০১২৯৫৮

