জয়পুরহাট প্রতিনিধি :
দক্ষিণ কোরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় জয়পুরহাটের এক তরুণ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। বিয়ের মাত্র চার মাসের মাথায় এমন হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় স্তব্ধ পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী।
নিহত হাসিবুর রহমান মিম (২৩) জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মহেশপুর গ্রামের নিজাবুল ইসলাম হিরো’র ছেলে। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার জেওনবুক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে উচ্চশিক্ষার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় পাড়ি জমান হাসিব। পড়াশোনার পাশাপাশি সেখানে খণ্ডকালীন কাজও করতেন তিনি। জীবনের নতুন স্বপ্ন নিয়ে মাত্র চার মাস আগে বিয়ে করেছিলেন। পরিবারকে সুখী করার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন এই তরুণ।

শনিবার (২ মে) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টার দিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে একটি ইলেকট্রিক স্কুটার চালিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন হাসিব। এসময় দ্রুতগামী একটি গাড়ি তাকে সজোরে ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখেন।
কিন্তু মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। রোববার (৩ মে) বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন হাসিব।
বিদেশ বিভুঁইয়ে এক তরুণ শিক্ষার্থীর এমন করুণ মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। বাড়িতে চলছে আহাজারি। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
শোকে ভেঙে পড়া বাবা নিজাবুল ইসলাম হিরো বলেন,
“আমার ছেলেটা অনেক স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গেছিলো। কয়দিন আগেও ফোনে বলছিলো—‘বাবা, তোমাদের জন্য কিছু করবো।’ আজ সেই ছেলে লাশ হয়ে ফিরবে, এই কষ্ট আমি কিভাবে সইবো।
নিহতের এক স্বজন বলেন, রেজ্জাকুল বলেন আমার ভাই সব সময় হাসিখুশি ছিলো। পরিবারের জন্য নিজের সব স্বপ্ন গুছিয়ে নিচ্ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে এমন খবর আমরা যেন বিশ্বাসই করতে পারছি না।
স্থানীয়রা বলছে বিয়ের পর নতুন সংসার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল হাসিব ও তার স্ত্রীর সুমনা আক্তার কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সবকিছু মুহূর্তেই থেমে গেল।
জিন্দারপুর ইউনিয়নের নারী ইউপি সদস্য ফারজানা আক্তার জুথি বলেন,এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। প্রবাসী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
জীবন গড়ার আশায় বিদেশে যাওয়া সেই তরুণ এখন নিজ গ্রামে ফিরবেন নিথর দেহ হয়ে। আর তার অপেক্ষায় থাকবে এক নববধূর অশ্রুসিক্ত চোখ, স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় ভেঙে পড়া পরিবার এবং পুরো গ্রামের নীরব কান্না।

