অনলাইন ডেস্ক:
শিশুস্বাস্থ্য সেবাকে আরও কার্যকর, দ্রুত ও আধুনিক করতে আইএমসিআই (IMCI) ডিজিটাল অ্যাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংযোজন এবং একটি সমন্বিত ড্যাশবোর্ড উন্নয়নের উদ্যোগের উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (০১ মে) ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত এ সভায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)-এর তত্ত্বাবধানে এবং সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ ও অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস-এর সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান,অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসনিম এবং সুমন সেনগুপ্ত, কান্ট্রি ডিরেক্টর,সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ। স্বাগত বক্তব্য দেন পরিচালক (এমআইএস) ডা. আবু আহম্মাদ আল মামুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন,ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তিনি উল্লেখ করেন,প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে শিশুদের রোগ শনাক্ত করতে পারবেন,যা সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করবে। এ উদ্যোগ স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও তথ্যনির্ভর ও কার্যকর করে তুলবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সভায় আইএমসিআই অ্যাপের বর্তমান অগ্রগতি তুলে ধরা হয় এবং জানানো হয়,কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযোজনের ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় আরও দ্রুত ও নির্ভুল হবে। বিশেষ করে নিউমোনিয়া,সেপসিস এবং ডায়রিয়ার মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগ মোকাবিলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বক্তারা বলেন,এখনও এসব রোগ পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। ২০২২ সালে চালু হওয়া আইএমসিআই অ্যাপ ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সহজ করেছে এবং ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
নতুন প্রকল্পের আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযোজনের পাশাপাশি একটি সমন্বিত ড্যাশবোর্ড এবং বহুভাষিক ভয়েস-সহায়ক প্রযুক্তি উন্নয়ন করা হবে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর্মীরা সহজে তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবেন এবং রোগীদের জন্য আরও উন্নত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য,ইন্টিগ্রেটেড ম্যানেজমেন্ট অব চাইল্ডহুড ইলনেস (আইএমসিআই) হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ-এর প্রণীত একটি কার্যকর পদ্ধতি, যা পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের অসুস্থতা ও মৃত্যুহার কমাতে বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

