ফেরদৌস আলী,শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় সরকারি জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় অস্থায়ী পদ্ধতির মধ্যে শুধু ইনজেকশন ছাড়া আর কোনো উপকরণই মিলছে না। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষেরা।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীবরদী উপজেলায় বর্তমানে মোট সক্ষম দম্পতির সংখ্যা ৫৭ হাজার ৫৭১ জন। এর মধ্যে নিয়মিত বিভিন্ন মেয়াদি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন ৪১ হাজার ১০৪ জন। বিপুলসংখ্যক এই দম্পতির জন্য সরকারিভাবে বিনা মূল্যে এসব উপকরণ সরবরাহ করার কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ে এখন তীব্র সংকট চলছে।
জানা যায়, সরকারিভাবে দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি হিসেবে ইমপ্ল্যান্ট সেবা দেওয়া হয়। এ ছাড়া অস্থায়ী পদ্ধতি হিসেবে খাবার বড়ি, কনডম ও ইনজেকশন সরবরাহ করা হয়ে থাকে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের পরিবারকল্যাণ সহকারী ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে শুধু ইনজেকশনের সরবরাহ রয়েছে। খাবার বড়ি, কনডমসহ অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতিগুলোর সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ডিডিএস কীট ও নরমাল ডেলিভারী কীট সরবরাহও বন্ধ রয়েছে।
মাঠপর্যায়ের কয়েকজন কর্মী জানান, উপকরণ না থাকায় সেবা নিতে আসা দম্পতিদের বাধ্য হয়ে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। বিনামূল্যের সরকারি উপকরণ না পেয়ে অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ বাজার থেকে বেশি দামে এসব সামগ্রী কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। দ্রুত এই সরবরাহ সংকট নিরসন না হলে সরকারের পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুর ইসলাম জানান, দীঘদিন ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সামগ্রী সরবরাহ বদ্ধ রয়েছে। আমাদের স্টকে যা ছিলো তা দিয়ে সংকট কাটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ নরমান ডেলিভারী কীটসহ অনেক পদ্ধতি সংকট দেখা দিয়েছে।

