এম.শাহীন আল আমীন, জামালপুর জেলা প্রতিনিধি :
মেরামতের অভাবে মরণ ফাঁেদ পরিনত হয়েছে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার মেষেরচর গ্রামে ঝুড়ার উপর নির্মিত জরাজীর্ণ ফুট ব্রিজ। ব্রিজ থেকে পড়ে গিয়ে এ পর্যন্ত মানুষ মারা গেছে ৪ জন ব্যক্তি। শিক্ষার্থীসহ আহত হয়েছে কমপক্ষে শতাধিক শিশু ও বয়োবৃদ্ধ মানুষ।
১০টি গরুসহ কমপক্ষে ৫০টি অন্যান্য গবাদী পশুর মৃত্যূ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জরাজীর্ণ ব্রিজটি ভেঙ্গে একটি নতুন ব্রিজ নির্মানের দাবি ১০ গ্রামের মানুষের।
জানা গেছে, গারো পাহাড় থেকে বকশীগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে মেষেরচর গ্রাম দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দশানী নদীর সাথে মিশে গেছে এই পাহাড়ী ঝুড়া।
বর্ষাকালে এই ঝুড়া দিয়ে পানির বেগ বেশি থাকে। এ কারণে এ অঞ্চলের মানুষের চলাচলের জন্য ১৯৮৮ সালে ১২০ ফুট দৈর্ঘের মেষেরচর ফুট ব্রিজটি নির্মাণ হয়। উপজেলার মেষেরচর, ঝালরচর, সরদারপাড়া, রবিয়ারচর, মিয়াপাড়া ও কুড়িপাড়াসহ কমপক্ষে ১০টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে থাকে মেষেরচর ফুট ব্রিজ দিয়ে।
ব্যবসায়ী ইব্রাহিম বলেন, ব্রিজটি অনেক উচু।

ভাঙ্গা ও তালিজোড়া ব্রিজ দিয়ে পারাপারের সময় ব্রিজ থেকে নিচে পড়ে গিয়ে এ যাবৎ ৪ জন লোক মারা গেছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে শতাধিক ব্যাক্তি। এর মধ্যে শিক্ষাথী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধ রয়েছে।
গরুর ব্যবসায়ী তারা মিয়া বলেন, ব্রিজ পারাপারের সময় ব্রিজ থেকে নিচে পড়ে গিয়ে কমপক্ষে ১০টি গরু মারা গেছে। ব্রিজ থেকে আহত হয়েছে কমপক্ষে ৫০টি গবাদী পশু।
শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এ ফুট ব্রিজ পার হয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে থাকে। একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীসহ এলাকার লোকজন ঝুকিঁমুক্ত পরিবেশে যাতায়াত করতে পারবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাদ বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষ ব্রিজটি ভেঙ্গে একটি নতুন ব্রিজ নির্মানের দাবি করে আসছে। আশ^াস ছাড়া আর কিছুই জুটেনি।

মেষেরচর গ্রামের সাবেক কাউন্সিলর আক্তার হোসেন বলেন, ব্রিজটি নির্মানের পর আর সংস্কার করা হয়নি। সংস্কারের অভাবে ব্রীজের দুই পাশের রেলিং ভেঙ্গে গেছে। সম্পূর্ণ ব্রিজটির বেহাল অবস্থা ও ব্যবহারের অযোগ্য। বিকল্প পথ না থাকায় মানুষ ও হালকা যানবাহন ঝুকিঁ নিয়ে চলা চল করে আসছে।
এ ব্যাপারে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী শামছুল হক বলেন, ব্রিজটি খুবই জরার্জীণ ও ব্যবহারের অযোগ্য। মূল ব্রীজের কিছু অংশ ভেঙ্গে পড়ায় কাঠ ও বাশঁ দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে লোকজন চলাচল করছে। এ কারণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উক্ত স্থানে একটি নতুন ব্রিজ র্নিমান করার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন ও বাজেট পেলেই নতুন কাজ শুরু হবে।

