মুহাম্মদ মহসিন আলী ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় কৃতি ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে ঢাকাস্থ বিজয়নগর সমিতির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য ছাত্র বৃত্তি ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ঢাকাস্থ বিজয়নগর সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম মিয়া সিআইপি’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর-বিজয়নগর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশ গড়ার মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম। তাদের মেধা ও মননশীলতাকে সঠিকভাবে বিকশিত করতে হলে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, কঠোর পরিশ্রম ও নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমেই জীবনে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। তিনি বলেন, “চাকরিতে সুযোগ পাওয়া কোনো তদবিরের বিষয় নয়; বরং মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমেই সফলতা আসে। তাই মেধাই হবে তোমাদের সবচেয়ে বড় তদবির।”
তিনি আরও বলেন, প্রান্তিক পর্যায় থেকেও পড়াশোনা করে দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন দৃঢ় মনোবল, অধ্যবসায় ও সঠিক দিকনির্দেশনা। পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
বিজয়নগরের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে মাদককে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, “তোমরা মাদক থেকে দূরে থাকবে এবং সমাজের অন্যদেরও মাদকমুক্ত রাখতে সচেতন ভূমিকা পালন করবে।” তিনি এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সামনে সময়টি তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় সফল হতে এখন থেকেই কঠোর প্রস্তুতি নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সকিনা আক্তার, বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক, জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ভিপি জহিরুল হক খোকনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন,জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, এ বি এম মুমিনুল হক, এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জমির হোসেন দস্তগীর, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেন, হেফাজতের নেতা মাওলানা আফজাল হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে সমাজের বিত্তবান ও সংগঠনগুলোর এগিয়ে আসা প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টি করে এবং তাদের ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনের পথে অনুপ্রাণিত করে।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থ ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আয়োজকদের এমন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলার বিএনপি’র অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনটি ছিল সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

