মো আলম, বান্দরবান প্রতিনিধি:
সম্প্রীতি জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরামের ২৫ তম অধিবেশনে আদিবাসী ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সন্তু লারমার নাতনি অগাস্টিনা চাকমা ও চঞ্চনা চাকমারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রবিরোধী ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য উপস্থাপনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে বান্দরবান প্রেসক্লাবের সামনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ ও বান্দরবানের সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে এই বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়
এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের সভাপতি কাজী মো:মজিবর রহমান,
সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন, ও বান্দরবান বাঙালি ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) জেলা সভাপতি আসিফ ইকবাল সহ সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা।
এ সময় মানববন্ধনে কাজী মুজিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠী কখনো আদিবাসী ছিল না; তারা বিভিন্ন সময়ে প্রতিবেশী দেশ থেকে এসে এ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছে। তিনি দাবি করেন, মারমা জনগোষ্ঠী মিয়ানমার থেকে, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে, চাকমা জনগোষ্ঠী ভারতের আসাম অঞ্চল থেকে এবং বম জনগোষ্ঠী ভারতের মিজোরাম রাজ্য থেকে এসে বর্তমানে বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে বসবাস করছে। অথচ এখন তারা নিজেদের আদিবাসী দাবি করছে।
তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তিতে স্পষ্টভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১টি জাতিগোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাদের উপজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন সরকার তাদের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। কিন্তু এখন আবার তারা নিজেদের আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক পরিচয় আদায়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কাজী মজিবর রহমান বলেন, একটি জাতি যদি বারবার নিজেদের পরিচয় পরিবর্তন করে, তবে তা তাদের অবস্থান ও দাবির দুর্বলতাকেই প্রকাশ করে। তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে অতীতে বহু বাঙালি ও সেনাসদস্য হত্যার ঘটনা ঘটেছে, যার বিচার ও সমাধান এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, সন্তু লারমা এখনো আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান পদে থেকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।
তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ সময় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পার্বত্য অঞ্চলে গৃহীত উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, তাঁর পুত্র তারেক রহমানও ভবিষ্যতে পার্বত্য বিষয়ক সমস্যাগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন।

