মোঃ রেজাউল হক শাকিল, ব্রাহ্মণপাড়া:
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় চলমান বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে মোমবাতির চাহিদা বেড়েছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সাধারণ মানুষ বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে রিচার্জেবল লাইটের পাশাপাশি মোমবাতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।
ফলে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে মোমবাতির বিক্রি সাধারণ সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আগে যেখানে দিনে অল্প পরিমাণ মোমবাতি বিক্রি হতো, অথবা কখনো কখনো সপ্তাহে একটিও বিক্রি হতো না, এখন সেখানে প্রতিদিনই কিছু না কিছু মোমবাতি বিক্রি হচ্ছে। যা আগে কখনো এ উপজেলায় হয়নি। আগে বেশিরভাগই মাজার বা মসজিদে মানত দেওয়ার জন্য মোমবাতি কিনতেন, তবে এখন বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে ঘরে ব্যবহারের জন্যও মোমবাতি কিনছেন।
স্থানীয় মুদি দোকানি ইউনুস মিয়া বলেন, আগে এক প্যাকেট মোমবাতি দোকানে উঠালে এগুলো বিক্রি করতে কখনো কখনো এক মাস সময়ও লেগে যেত। সেই তুলনায় এখন মোমবাতি প্রতিদিনই কিছু না কিছু বিক্রি হচ্ছে। বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়ার কারণে মোমবাতির ব্যবহার বেড়েছে। এজন্য মোমবাতির চাহিদা বাজারে কিছুটা বেড়েছে।
জসিম উদ্দিন নামে আরেক দোকানি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ উপজেলায় বিদ্যুতের সমস্যা বেশি হযওয়ায় বাজারে মোমবাতির চাহিদা বেড়েছে। আগে মোমবাতি দোকানে যে পরিমাণে উঠাতাম এখন তার চেয়ে বেশি উঠাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে ক্রেতারাও বলছেন, বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে বাধ্য হয়েই মোমবাতির ব্যবহার বাড়াতে হচ্ছে। ঘন ঘন লোডশেডিং এর কারণে রিচার্জেবল লাইটও চার্জ নেওয়ার অভাবে বেশিক্ষণ আলো দিতে পারছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা আসমা আক্তার বলেন, প্রতিদিনই কিছুক্ষণ পরপর বিদ্যুৎ চলে যায়। দিনের বেলায় যেমন-তেমন রাতের বেলা তো আলোর প্রয়োজন হয়। রাতের বেলা আলোর প্রয়োজন মেটাতে রিচার্জেবল লাইট ব্যবহার করতাম। কিন্তু সারাদিন বিদ্যুতের বিভ্রাটের কারণে রিচার্জেবল লাইটও বেশিক্ষণ আলো দিতে পারে না। এজন্যে মোমবাতি ব্যবহার করতে হচ্ছে।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা কামরুজ্জামান বলেন, সন্ধ্যার সময় বিদ্যুৎ না থাকলে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজ করতে সমস্যা হয়। রিচার্জেবল লাইটের ওপরও ভরসা করা যায় না। এজন্য এ সময়টায় রিচার্জেবল লাইটের পাশাপাশি ঘরে মোমবাতি রাখতে হচ্ছে।

