জাবেদ শেখ, শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি:
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও ইউনিয়নের মনুয়া গ্রামে একফসলি জলমগ্ন জমিতে সমন্বিত ধান ও মাছ চাষের উদ্যোগকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় এলাকা।
২৩ এপ্রিল বিকেল ৫টায় জমির মালিকদের একাংশ চাঁদাবাজি ও অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করে আরেক পক্ষ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনুয়া গ্রামের কিছু জমি বছর চুক্তিতে মাছের ঘেরের জন্য দেওয়ার পর বিপাকে পড়েছেন কয়েকজন জমির মালিক। তারা অভিযোগ করেন, কৃষিজমি নষ্ট করে অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের তৈরি করা হচ্ছে। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক কৃষক জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) এসব অভিযোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। পরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসান ভুট্টু মজুমদারের নেতৃত্বে একটি স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। এতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং কৃষিজমি রক্ষার দাবি জানানো হয়।
বিক্ষুব্ধ কৃষকদের অভিযোগ, যত্রতত্র পুকুর খনন ও মাটি বিক্রির কারণে আশপাশের জমিতে জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট তৈরি হচ্ছে। এতে খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এসব কার্যক্রম বন্ধ না হলে তারা আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছয়গাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লিটন মোল্লা। তিনি দাবি করেন, সব নিয়ম মেনেই সমন্বিত খামার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মনুয়া গ্রামে প্রকল্প এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন জমির মালিক পক্ষ। সেখানে তারা অভিযোগ করেন, একটি অসৎ গোষ্ঠী কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই খামারের অংশীদারিত্ব দাবি করে এবং এতে রাজি না হওয়ায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে প্রকল্পে বাধা দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে তারা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে এক কৃষক গণমাধ্যমে দেওয়া তার আগের বক্তব্য প্রত্যাহার করে বলেন, তখন আমার মানসিক অবস্থা ঠিক ছিল না। এখন আমি বিষয়টি মেনে নিয়েছি।
লিখিত বক্তব্যে জমির মালিকরা বলেন, তাদের জমি বছরের প্রায় সাত মাস পানিতে ডুবে থাকে। ফলে এক ফসলের বেশি উৎপাদন সম্ভব হয় না। এই অবস্থায় খাদ্য ও প্রোটিন চাহিদা পূরণে তারা পরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ করে ধান ও মাছের সমন্বিত চাষ শুরু করতে চান।
তারা আরও অভিযোগ করেন, চাঁদা না দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া মানববন্ধন করা হয়েছে, যেখানে অংশ নেওয়া অনেকেই প্রকৃত কৃষক নন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে তারা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

