মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী নিত্যপণ্যের পাশাপাশি জীবনরক্ষাকারী ওষুধের বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং কাঁচামালের ঘাটতির কারণে বিভিন্ন ওষুধের দাম দ্রুত বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর আল-জাজিরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ওষুধ শিল্প মূলত পেট্রোকেমিক্যাল নির্ভর। এই কাঁচামাল ব্যবহার করে জটিল প্রক্রিয়ায় ওষুধ তৈরি করা হয়। কিন্তু সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত সীমিত হয়ে পড়ায় সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারদরে।
শুধু কাঁচামাল নয়, পরিবহন ব্যবস্থাও সংকটে পড়েছে। আধুনিক ওষুধ শিল্প শীতল পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হলেও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, রুট সীমিত হওয়া এবং পরিবহন বাধার কারণে খরচ বহুগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে টিকা ও জরুরি ওষুধ সরবরাহে এই সংকট বেশি দেখা দিচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছে উন্নয়নশীল দেশগুলো। ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ওষুধ উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখলেও কাঁচামালের জন্য তারা মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। একই সঙ্গে আফ্রিকা ও সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে ওষুধের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
যুক্তরাজ্য ও ভারতের বাজারেও ইতোমধ্যে সাধারণ ওষুধের দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানা গেছে। পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধির ফলে খুচরা পর্যায়েও এর প্রভাব পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে ওষুধের এই মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোর সাধারণ মানুষ।

