মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান নৌ অবরোধের অংশ হিসেবে ৩১টি বাণিজ্যিক জাহাজকে পথ পরিবর্তন করতে বা নিকটবর্তী বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নির্দেশে গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের উপকূলীয় এলাকায় এই অবরোধ কার্যকর করা হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটকানো জাহাজগুলোর বেশিরভাগই তেলবাহী ট্যাঙ্কার।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও বিমান বাহিনীর যৌথ অভিযানে ইরানগামী কিংবা ইরান থেকে ছেড়ে আসা জাহাজগুলোকে তল্লাশি করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে তাদের গতিরোধ করা হচ্ছে।
ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটন এই কঠোর পদক্ষেপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ন্ত্রণে আনতেই এই অবরোধ।
হোয়াইট হাউসের হিসাব অনুযায়ী, এই অবরোধের ফলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়ছে ইরান।
অন্যদিকে তেহরান এই পদক্ষেপকে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে উল্লেখ করে পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক জাহাজ জব্দ করার কথা জানিয়েছে।
এ পরিস্থিতির প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

