স্বামীর মৃত্যুর পর মাথা গোঁজার ঠাঁই মেলেনি শ্বশুরবাড়িতে। শেষ পর্যন্ত দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে স্বামীর কবরের পাশেই আশ্রয় নিয়েছেন অসহায় স্ত্রী সোনিয়া বেগম। গাজীপুরের কালিয়াকৈরের উত্তর লস্করচালা এলাকায় এই মর্মস্পর্শী দৃশ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৯ বছরের শিশুকন্যা ছোঁয়া ও ১৮ মাস বয়সী ছেলেকে নিয়ে কবরের পাশে অসহায়ভাবে বসে আছেন সোনিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর লস্করচালা এলাকার কফিল উদ্দিনের বড় ছেলে সুজন মাহমুদ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত ২ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন। সোনিয়ার অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির আর্থিক সামর্থ্য থাকলেও চিকিৎসার অভাবে সুজন ধুঁকে ধুঁকে মারা যান। এমনকি স্বামীর দাফনের সময়ও শ্বশুর কফিল উদ্দিন ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান, যা ওই সময় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল।
স্বামী হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই সোনিয়া জানতে পারেন, শ্বশুরবাড়িতে তাঁর ও তাঁর সন্তানদের আর কোনো জায়গা নেই। অসহায় অবস্থায় স্থানীয় এক ব্যক্তি সাময়িক আশ্রয় দিলেও আইনি জটিলতার ভয়ে তিনি বেশিদিন রাখতে পারেননি।
অশ্রুভেজা চোখে সোনিয়া বেগম বলেন, “আমার স্বামীর লাশ ফেলে শ্বশুর চলে গিয়েছিলেন। এখন এই দুই সন্তান নিয়ে আমি কোথায় যাব? স্বামীর ভিটায় থাকার অধিকারটুকুও আমাকে দেওয়া হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে স্বামীর কবরের পাশে বসে আছি।”
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষকে নিয়ে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। সমাধান না হলে আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, “বিষয়টি নজরে আসার পর আপাতত ওই নারী ও শিশুদের গ্রামের একটি বাড়িতে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সোনিয়ার শ্বশুর বাড়িতে তালা দিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় এখনই সেখানে তোলা যাচ্ছে না। তবে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী মীমাংসার চেষ্টা করছি।”

