আটলান্টিক মহাসাগরের স্রোত ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এই মহাসাগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্রোতব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে যেসব মডেল সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতির পূর্বাভাস দেয়, বাস্তব পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সেগুলোর মিলও বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা যে স্রোতটির কথা বলছেন, তা হলো অ্যাটলান্টিক মেরিডিওনাল ওভারটার্নিং সার্কুলেশন (AMOC)। এটি পৃথিবীর জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণা অনুযায়ী, গত প্রায় ১,৬০০ বছরের মধ্যে এই স্রোত এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিনের উষ্ণতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এটি দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই স্রোত উষ্ণ পানিকে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চল থেকে ইউরোপ ও আর্কটিকের দিকে নিয়ে যায়, যেখানে ঠান্ডা হয়ে পানি গভীরে নেমে আবার ফেরত স্রোত তৈরি করে। এই স্বাভাবিক চক্রে ব্যাঘাত ঘটলে বৈশ্বিক আবহাওয়ার ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
গবেষকদের মতে, AMOC ভেঙে পড়লে বৈশ্বিক বৃষ্টিপাতের ধরণ বদলে যেতে পারে। কোটি কোটি মানুষের কৃষিনির্ভর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে। পশ্চিম ইউরোপে চরম শীত ও খরার পাশাপাশি আটলান্টিক উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৫০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে লাতিন আমেরিকায় অতিবৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে, আর পশ্চিম আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায় বৃষ্টিপাত কমে দীর্ঘ খরার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিভিন্ন জলবায়ু মডেল এই স্রোতের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পূর্বাভাস দিলেও সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী ২১০০ সালের মধ্যে এর শক্তি ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি স্রোত ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ভেঙে পড়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
গবেষণাটি নিয়ে জলবায়ু বিজ্ঞানীরা একে ‘গুরুতর সতর্ক সংকেত’ হিসেবে দেখছেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

