২০২৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ জন শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীর রহস্যজনক নিখোঁজ বা অস্বাভাবিক মৃত্যু কেবল কাকতালীয় কোনো ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র বা নিরাপত্তা ভঙ্গের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
নিখোঁজ বা মৃত বিজ্ঞানীরা মূলত এমন সব প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের মেরুদণ্ড,লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি: যেখানে পারমাণবিক অস্ত্রের নকশা ও উন্নয়ন করা হয়।
নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি (JPL): মহাকাশ আধিপত্য ও উন্নত রকেট প্রযুক্তির প্রাণকেন্দ্র।
এমআইটি প্লাজমা সায়েন্স অ্যান্ড ফিউশন সেন্টার: ভবিষ্যৎ জ্বালানি বা ফিউশন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার প্রধান কেন্দ্র।
অধিকাংশ নিখোঁজের ঘটনায় একটি অদ্ভুত মিল পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা যখন বাড়ি থেকে বের হন। তাদের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও চাবি বাড়িতেই রেখে গেছেন। কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা বা চিহ্ন ছাড়াই তারা স্রেফ ‘বাতাসে মিশে গেছেন’।
অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল উইলিয়াম নিল ম্যাকক্যাসল্যান্ডের মতো হাই-প্রোফাইল ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়া প্রমাণ করে যে, সাধারণ বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি নীতিনির্ধারক পর্যায়ের ব্যক্তিরাও নিরাপদ নন।
সাবেক এফবিআই কর্মকর্তাদের মতে, এর পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে:
কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র (যেমন ইরান, চীন বা রাশিয়া) উন্নত প্রযুক্তি বা পারমাণবিক গোপন তথ্য হাতিয়ে নিতে এই বিজ্ঞানীদের অপহরণ করতে পারে।
যদি কোনো বিজ্ঞানী ডাবল এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন অথবা অন্য কোনো দেশের কাছে তথ্য পাচার করতে চান, সেক্ষেত্রেও এমন ‘এলিমিনেশন’ বা সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সক্ষমতা কমিয়ে দিতে মেধাবী বিজ্ঞানীদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করাও একটি সম্ভাবনা।
এত বড় একটি জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটের “আমি এখনও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলিনি” মন্তব্যটি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মতো একটি কট্টরপন্থী সরকারের এই ধীরগতির প্রতিক্রিয়া অনেককে ভাবিয়ে তুলছে—তবে কি পর্দার আড়ালে অন্য কোনো বড় তদন্ত চলছে যা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না?
বিজ্ঞানীদের এই নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি পারমাণবিক প্রযুক্তির গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় এক বিপর্যয়। বিশেষ করে ইরান বা উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অগ্রযাত্রার এই সময়ে এই ঘটনাগুলো বিশ্বব্যাপী শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।

