ইবি প্রতিনিধি:
ফের জটে পড়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বাংলা নববর্ষ উদযাপন। নির্ধারিত দিনে আয়োজন না করে একদিন পর অনুষ্ঠান করায় দেখা দিয়েছে সমন্বয়হীনতা-কমেছে অংশগ্রহণ, অনুপস্থিত থেকেছে বিভিন্ন বিভাগ ও ছাত্রসংগঠন, আর দাওয়াত না পাওয়ার অভিযোগও উঠেছে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে। গত বছরও বৈশাখের তৃতীয় দিন অর্থাৎ ১৬ এপ্রিল নববর্ষ উদযাপন করেছিল ইবি প্রশাসন, ফলে ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে আয়োজন ঘিরে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।
সারা দেশে নববর্ষ উদযাপন পহেলা বৈশাখেই যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হলেও ইবিতে বুধবার (১৫ এপ্রিল) নববর্ষ উদযাপন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ছুটির দিনে উপস্থিতি কম হওয়ার আশঙ্কায় একদিন পর আয়োজন করা হলেও প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম।
এদিকে আয়োজনে অংশ নেয়নি বিভিন্ন বিভাগ ও ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন। ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে তারা যথাসময়ে কোনো দাওয়াত পাননি।
নববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে সকাল ১১টায় প্রশাসন ভবন চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাংলা মঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ‘চার শতকের বর-বধুর বিবাহের সাজ-সজ্জা ও আচারের বিবর্তনের খণ্ডচিত্র’ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ‘বিসর্জন’ নাটক মঞ্চস্থ করা হয়। এছাড়া গোপেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর শোলার শিল্পকর্ম প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান ও ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলামসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
একদিন পর আয়োজনের বিষয়ে নববর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ড. মনজুর রহমান বলেন, “গতকাল সরকারি ছুটি থাকায় ক্যাম্পাসে সাধারণত উপস্থিতি কম থাকে। সে কারণেই আজ আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সকলকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল এবং ছাত্রসংগঠনগুলোকেও জানানো হয়েছে। তবে তারিখ নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তির কারণে অনেককে দেরিতে জানানো হয়েছে। এরপরও অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, “বৈশাখ পুরাতনকে ঝেড়ে ফেলে নতুনকে আহ্বান জানায়। বর্ষবরণ বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই উৎসব আমাদের জীবনে নতুন উদ্দীপনা ও প্রেরণা জাগায়।”

