আবদুল্লাহ আল শাহিদ খান, ববি প্রতিনিধি:
বাংলার চিরায়ত লোকসংস্কৃতি আর বাণিজ্যিক ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ‘হালখাতা’। একসময় গ্রামবাংলার হাট-বাজারে বৈশাখের প্রথম দিনে লাল কাপড়ে মোড়ানো নতুন খাতা খোলার যে উৎসব চলত, কালের বিবর্তনে তা আজ অনেকটাই বিরল।
তবে সেই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ফিরিয়ে আনতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইনকিলাব মঞ্চ ।
পুরানোকে বিদায় জানিয়ে নতুনের আবাহনে তারা আয়োজন করেছে এক আধুনিক অথচ শেকড় সন্ধানী হালখাতা উৎসব।
বাঙালি সংস্কৃতির হালখাতা মানেই কেবল হিসাবের খাতা নয়, বরং এটি ছিল ক্রেতা-বিক্রেতার বন্ধন এক সুযোগ। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চের এই আয়োজনেও সেই ঐতিহ্য ধারন করছেন । আগত
হালখাতার চিরচেনা অনুষঙ্গ হিসেবে রাখা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী সন্দেশ ও খৈ, শুকনো মুড়ি ।
বাঙালির আতিথেয়তার রীতি মেনে আগত সকলের জন্য থাকছে বিশেষ মিষ্টিমুখের ব্যবস্থা।
এই আয়োজনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং আধুনিক সংযোজন হলো ‘মুক্তচিন্তার দেয়াল’ । বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তাকে গুরুত্ব দিতেই এই বিশেষ আয়োজন।
এই দেয়ালে যা থাকছে :
নববর্ষ নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব ভাবনা, স্বপ্ন এবং সমাজের প্রতি তাদের আকাঙ্ক্ষার কথা লিখে জানাতে পারছেন। গতানুগতিক উদযাপনের বাইরে নববর্ষের প্রকৃত তাৎপর্য কী হওয়া উচিত, তা নিয়ে যে কেউ তার মন্তব্য বা ছোট চিরকুট ঝুলিয়ে দিতে পারছেন।
বর্তমান সময়ে যখন বৈশাখী উৎসব অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিমতায় রূপ নিচ্ছে, তখন ইনকিলাব মঞ্চের এই উদ্যোগ মূলত দুটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে: বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ ব্যবসা-সংস্কৃতিকে তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় মুক্তভাবে কথা বলার এবং চিন্তা প্রকাশের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে ইনকিলাব মঞ্চের এই হালখাতা উৎসব প্রমাণ করে যে, ঐতিহ্য কেবল ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়। সৃজনশীলতা আর মুক্তচিন্তার সমন্বয় ঘটালে প্রাচীন লোকজ সংস্কৃতিও হয়ে উঠতে পারে আধুনিক সময়ের প্রেরণা। বৈশাখের এই নতুন ভোরে ‘মুক্তচিন্তার দেয়াল’ থেকে বেরিয়ে আসুক ইতিবাচক আগামীর বার্তা।

