ঈদ মানেই আনন্দ, নতুন জামা-কাপড় আর উৎসবের রঙ। কিন্তু চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার হাজারো শিশু-কিশোরের ঈদ আনন্দ সেই রঙিন মুহূর্তে পৌঁছায় না। দারিদ্র্য ও অভাব-অনটনের কারণে তাদের ঈদ কাটে অন্য দিনের মতোই।
একলাছপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১০ বছর বয়সী শিশু মোবারাক উল্যা বলেন, “ঈদে নতুন জামা-কাপড় না পেলে সারাদিন মন খারাপ থাকে। জামা না পেয়ে কাঁদলেও বাবা কিছুই করতে পারেন না।”
মতলব উত্তর উপজেলার একলাছপুর, বেলতলী, দুর্গাপুর, চরউমেদ ও ছোট চরকালিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রায় দুই হাজার শিশু-কিশোর ঈদের নতুন পোশাকের স্বপ্ন থেকে বঞ্চিত। এসব পরিবার নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। জীবিকার প্রধান উৎস মাছ ধরা হলেও মেঘনা নদীতে মার্চ ও এপ্রিল মাসে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাদের আয় বন্ধ, কষ্ট বেড়ে গেছে।
দুর্গাপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা নার্গিস আক্তার (৯) জানান, এবারের ঈদেও নতুন জামা না পেয়ে তিনি হতাশ। মজিদা বেগম বলেন, “আমার স্বামী নদীতে মাছ ধরেই পরিবার চালাচ্ছেন। এখন মাছ ধরা বন্ধ, খাওয়াবো নাকি জামা কিনে দেবো?”
এখলাছপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী জানিয়েছেন, জেলে পরিবারগুলোর কষ্ট বেড়ে যায় যখন মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা থাকে। তিনি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস জানান, উপজেলায় প্রায় ৯ হাজার ১০০ জন জেলে রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাদের প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে।

