নুরী আক্তার মুন, ডেস্ক রিপোর্ট:
রোজা রাখার নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়ন্ত্রিত উপবাস ওজন কমাতে সহায়ক এবং ইনসুলিন প্রতিরোধ কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের হৃদরোগ, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের জন্য রমজানে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। দীর্ঘ সময় না খাওয়ার ফলে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে, যা হৃদরোগীদের জন্য জটিলতা তৈরি করতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, যাদের সম্প্রতি হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বা হার্ট সার্জারি হয়েছে, তাদের রোজা না রাখাই উত্তম। একইভাবে অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদযন্ত্রের ছন্দজনিত সমস্যায় ভোগা রোগীদেরও সতর্ক থাকতে হবে।
রমজানে সুস্থ থাকতে হৃদরোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ
ইফতারে অতিরিক্ত খাবেন না: দীর্ঘক্ষণ না খাওয়ার পর হঠাৎ বেশি খেলে শরীরে চাপ পড়ে এবং হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়।
পানি ও তরল গ্রহণ বাড়ান: ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। সাধারণত অন্তত ৮ গ্লাস তরল গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
ক্যাফেইন কমান: চা, কফি ও কোমল পানীয় কম খাওয়া উচিত, কারণ ক্যাফেইন হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়াতে পারে।
স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিন: ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত মিষ্টি এড়িয়ে ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য ও চর্বিহীন প্রোটিন গ্রহণ করুন।
খাবার ও পানি ভাগ করে খান: একসঙ্গে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়াই ভালো।
হালকা ব্যায়াম করুন: ইফতারের আগে বা পরে হালকা হাঁটা বা স্ট্রেচিং উপকারী হতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন: কম ঘুম হৃদযন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—রোজা শুরুর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা এবং নিয়মিত রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করা। চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া হৃদরোগীদের রোজা না রাখাই নিরাপদ।


