ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নতুন সংসদ গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ২৯৭ জন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করা হয়। নতুন প্রতিনিধিদের দায়িত্ব গ্রহণের আগে আবারও আলোচনায় এসেছে—সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রীয়ভাবে কী ধরনের বেতন, ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পান।
বাংলাদেশে সংসদ সদস্যদের পারিশ্রমিক ও ভাতা নির্ধারিত হয়েছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার, ১৯৭৩’ অনুযায়ী, যা সময়ের সঙ্গে একাধিকবার সংশোধিত হয়েছে। সর্বশেষ সংশোধন হয় ২০১৬ সালে।
বর্তমান বিধান অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য মাসিক ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন পান। এর পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকা পরিচালনার জন্য ১২ হাজার ৫০০ টাকা এবং আপ্যায়ন ভাতা হিসেবে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরিবহন খাতে বরাদ্দ রয়েছে মাসিক ৭০ হাজার টাকা, যার মধ্যে জ্বালানি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত।
এ ছাড়া অফিস পরিচালনার জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা, লন্ড্রি ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিবিধ খরচ বাবদ ৬ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। অর্থাৎ বেতনের বাইরে দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানা ব্যয়ের জন্য আলাদা ভাতার ব্যবস্থা রয়েছে।
যানবাহনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য করমুক্তভাবে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানির সুযোগ পান। পাঁচ বছর পূর্ণ হলে একই সুবিধায় নতুন করে গাড়ি আমদানির সুযোগও রয়েছে।
ভ্রমণ সুবিধাও তুলনামূলক বিস্তৃত। সংসদ অধিবেশন, কমিটির বৈঠক বা দায়িত্বসংক্রান্ত কাজে বিমান, রেল বা নৌপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড়গুণ পর্যন্ত ভাতা পাওয়া যায়। সড়কপথে যাতায়াতে কিলোমিটারপ্রতি নির্ধারিত হারে ভাতা দেওয়া হয়। দেশের অভ্যন্তরে যাতায়াতের জন্য বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা অথবা সমমূল্যের ট্রাভেল পাসের সুবিধা রয়েছে।
সংসদ অধিবেশন বা কমিটির বৈঠকে অংশগ্রহণ করলে দৈনিক ৮০০ টাকা ভাতা এবং ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা দেওয়া হয়। দায়িত্বস্থলে অবস্থানের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত দৈনিক ভাতা প্রযোজ্য।
চিকিৎসা সুবিধার আওতায় সংসদ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসাসেবা পান। পাশাপাশি মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসাভাতা দেওয়া হয়। দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকার সরকারি বীমা সুবিধা রয়েছে।
এ ছাড়া প্রত্যেক সংসদ সদস্য বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহার করতে পারেন নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী। টেলিযোগাযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে তাঁদের বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয় এবং মাসিক ৭ হাজার ৮০০ টাকা টেলিফোন ভাড়া ও কল খরচ বাবদ বরাদ্দ থাকে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সংসদ সদস্যদের প্রাপ্ত ভাতাগুলো আয়করমুক্ত।
সব মিলিয়ে দেখা যায়, মূল বেতনের বাইরে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে সংসদ সদস্যদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত একাধিক আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে।

