আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল অংশগ্রহণ করছে না। বিসিবির অনড় অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পরিবর্তে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
শনিবার সকালে আইসিসির প্রধান নির্বাহী (সিইও) সঞ্জোগ গুপ্ত আইসিসি বোর্ডের সদস্যদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বিষয়টি চূড়ান্ত করেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দাবি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত অবস্থান আইসিসির নির্ধারিত নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আইসিসি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত ভেন্যুতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশের জায়গায় অন্য একটি দেশকে (স্কটল্যান্ড) আমন্ত্রণ জানানো ছাড়া বিকল্প ছিল না।
মূলত ভারতে দল পাঠাতে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশ। বিসিবি চেয়েছিল বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হোক। তবে আইসিসি বোর্ড সভায় ১৪-২ ভোটে ভেন্যু পরিবর্তনের প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। এরপর বিসিবি ‘স্বাধীন বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির’ (ডিআরসি) দ্বারস্থ হলেও সেখানে কোনো সুরাহা মেলেনি। আইসিসির দেওয়া ২৪ ঘণ্টার চূড়ান্ত সময়সীমা (ডেডলাইন) পার হওয়ার পরই এই চরম সিদ্ধান্ত এলো।
বাংলাদেশের বিদায়ে বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে সুযোগ পেয়েছে স্কটল্যান্ড। র্যাঙ্কিংয়ে ১৪তম অবস্থানে থাকায় এবং সহযোগী দেশ হিসেবে পারফরম্যান্সে এগিয়ে থাকায় তারাই বাংলাদেশের জায়গাটি পেয়েছে। স্কটল্যান্ড এখন নির্ধারিত ভেন্যু কলকাতা ও মুম্বাইয়ে খেলবে।
স্কটল্যান্ডের বিশ্বকাপ সূচি (গ্রুপ সি):
৭ ফেব্রুয়ারি: বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ (কলকাতা)
৯ ফেব্রুয়ারি: বনাম ইতালি (কলকাতা)
১৪ ফেব্রুয়ারি: বনাম ইংল্যান্ড (কলকাতা)
১৭ ফেব্রুয়ারি: বনাম নেপাল (মুম্বাই)
বিসিবি ও দেশের ক্রিকেটে প্রভাব
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে আইসিসির সিদ্ধান্তের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। দেশের ক্রিকেটে এই ঘটনাকে একটি বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। খেলোয়াড়দের সাথে আলোচনা ছাড়াই সরকারের পক্ষ থেকে এই ‘বয়কট’ সিদ্ধান্ত আসায় ক্রিকেট অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে দেশের ক্রিকেটের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

