সহিদুল করিম বিপ্লব , রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) :
রাজধানীর উপকণ্ঠে রূপগঞ্জের পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিভিশন সেন্টারে চলছে ৩০ তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। মেলার শুরুর ১৪তম দিনে এবং দ্বিতীয় সপ্তাহে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এই মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দুপুরের পর থেকেই জনস্রোতে মেলা প্রাঙ্গণে ঢল নামে যেন হাজারও লোকের। আর তাতেই ব্যবসায়ীদের চোখেমুখে খেলে যায় আলোর ঝিলিক।
প্রথম সপ্তাহের মতো দ্বিতীয় সপ্তাহের শনিবার কসমেটিক্স, কাপড় ও রান্নার কাজে ব্যবহৃত ক্রোকারিজ পণ্যের স্টল গুলোতেই ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি। এছাড়া, খাবারের স্টলগুলোতেও ছিল অনেকের সরব উপস্থিতি। দুটি কিনলে একটি ফ্রি ও এছাড়া পন্য সামগ্রীতে ছাড়ের ছড়াছড়িতে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন স্টল গুলোতে। দর্শণার্থীদের কারো আকর্ষণ ঘর সাজানো সামগ্রী ঘিরে, কারো আবার নিজেকে সাজানোর উপকরণের দিকে। এসব দর্শণার্থী ও ক্রেতার পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। তরুণ, বয়ষ্কদের পাশাপাশি বাদ যায়নি শিশুরাও।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলে রূপগঞ্জের পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিভিশন সেন্টারে বসেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০ তম আসর। শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে শুরু করে ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যা। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউ বা বন্ধুদের নিয়ে এসেছেন মেলায়। স্টলে স্টলে ঘুরে নানা পণ্য কিনছেন ক্রেতারা। কেউবা মেতেছেন আড্ডায়, তুলছেন ছবি। কেউ খুঁজছেন তৈজসপত্র। কারো ব্যস্ততা ঘরসজ্জার পণ্য খুঁজতে। অনেকে আবার পছন্দের ফার্নিচার কিনছেন সাধ আর সাধ্যের মধ্যে। কারো কারো নজর ছাড়ের দিকে। তাই ছুটছেন দোকান থেকে দোকানে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্রেতা-দর্শনার্থীর আনাগোনায় জমাজমাট বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণ। ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের বিপুল আগমনে বিক্রেতা খুশি। ছুটির দিনগুলোতে স্বাভাবিকভাবেই উপচেপড়া ভিড় থাকে মেলা প্রাঙ্গণে। বেচা-বিক্রিও বেশ জমে ওঠে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন অফার ও পণ্য ছাড় দিচ্ছেন তারা। জেলখানার কারাবন্দীদের হাতে তৈরি হস্তশিল্পের পণ্য সামগ্রী পেয়ে খুশি ক্রেতারা। এছাড়া মেলার আকর্ষণ হিসেবে জুলাই আন্দোলন, ৫২ ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে তৈরি “বাংলাদেশ স্কয়ারে” ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
মেলায় নিরাপত্তায় পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি র্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে। নিয়োজিত রেখেছেন ফায়ার সার্ভিসের ব্যবস্থা। বিশেষ করে, মেলায় শিশু বিনোদন কেন্দ্রে প্যাডেল বোট, হানিছি, স্লিপার, হেলিকপ্টার, নাগরদোলা, নৌকা, ট্রেনসহ বিভিন্ন রাইতে চড়ে আনন্দ নিচ্ছেন শিশুরা। হাজী বিরানি, মিঠাই, ঝটপট, তুর্কি রেস্টুরেন্ট, টেস্টি ট্রিট, ব্যাকেটসহ নানা খাবার স্টলে ভিড় করছেন ভোজনপ্রেমী দর্শনার্থীরা।
এছাড়া আরএফএল, দুরন্ত বাইসাইকেল, প্রাণ কোম্পানি, ডাচ বাংলা সুট সাফারি, থ্রি পিস, ঢাকাই জামদানি, শীতের চাদর, জুতা, গৃহস্থালিত নানা ধরনের পণ্য সামগ্রী, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, মোটরসাইকেল, স্কুটি, নৃত্য প্রয়োজনেও অ্যালুমিনিয়াম জিনিসপত্রসহ প্যাভিলিয়ন ও স্টল গুলোতে সাজানো নানা ধরনের পণ্য সামগ্রী ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত তৈজসপত্র, গৃহসজ্জা, কসমেটিকস কিংবা পোশাক আইটেম কিনতে বাণিজ্য মেলায় ছুটে এসেছেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা।
পণ্যের গুণগান আর ছাড়ের টোপে ক্রেতাদের আটকাতে দম ফেলার ফুরসত নেই বিক্রয়প্রতিনিধিদেরও। মেলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় ভারি পণ্য থেকে শুরু করে একেবারে ছোট পণ্যটি একসঙ্গে পেয়ে ক্রেতারাও বেজায় খুশি। ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা এসে পন্য সামগ্রী ক্রয় করতে পেরে তারা অনেক খুশি। তবে অনেকের কাছে স্টল গুলোতে পণ্য সামগ্রীর মূল্য বেশি ধরা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। এছাড়া মেলা আসতে গিয়ে অনেকে যানজটে আটকা পড়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
বাণিজ্যমেলা প্রাঙ্গণ জুড়ে ৩২৪ টি স্টল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। এবারের মেলায় ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার মোট ১১ টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ গ্রহণ করেছে। ৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মেলা চলবে ৩১ শে জানুয়ারি পর্যন্ত। মেলা কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রেখেছেন ৯’শ বেশি পুলিশ সদস্য ও আনসার বাহিনী।

