জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থার ভিত নাড়িয়ে দিচ্ছে। গত ১৩ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৯টি শিশু রয়েছে।
৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে বিক্ষোভকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি এই আন্দোলনকে ‘শত্রুর ষড়যন্ত্র’ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করার প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। খামেনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ‘নাশকতাকারীদের’ সামনে কোনোভাবেই মাথা নত করবে না।
বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার ডিজিটাল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার কৌশল নিয়েছে। আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস এবং ক্লাউডফ্লেয়ার জানিয়েছে, গত ৮ জানুয়ারি থেকে ইরানে দেশব্যাপী ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
বর্তমান সংযোগ: স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্র ১ শতাংশ ইন্টারনেট সচল আছে।
মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগ: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর ‘নৃশংসতা’ আড়াল করতেই এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট করা হয়েছে। অনেক স্থানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ইরানের শাসনব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতার ক্ষমতা নিরঙ্কুশ হলেও চলমান বিক্ষোভ তাঁর নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গার্ডিয়ান কাউন্সিল: এই কাউন্সিল সংস্কারপন্থী প্রার্থীদের অযোগ্য ঘোষণা করে নির্বাচনের পথ সংকুচিত করলেও বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি কঠিন সময়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব: খামেনির বার্ধক্য এবং কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তরসূরি না থাকায় ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যতে একটি বড় শূন্যতা বা অনিশ্চয়তার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
বিক্ষোভ এখন কেবল তেহরানে সীমাবদ্ধ নেই; এটি দেশটির ৩১টি প্রদেশের সব কটিতেই ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে বিক্ষোভকারীরা ‘স্বৈরশাসকের নিপাত যাক’ স্লোগান দিচ্ছেন এবং সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটছে। টাইম ম্যাগাজিনের দাবি অনুযায়ী, শুধুমাত্র তেহরানের হাসপাতালেই কয়েকশ’ নিহতের রেকর্ড থাকতে পারে, যদিও এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

