সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সড়ক পরিবহন খাতে ব্যবহৃত মোট যানবাহনের অন্তত ৩০ শতাংশকে ইলেকট্রিক ভেহিকেলে (ইভি) রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পরিবেশ দূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন-৩৩-এর সদস্য শওকত আরা আক্তারের উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর যানবাহনের পরিবর্তে ধীরে ধীরে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর দিকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ, যানবাহন থেকে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাস, বিশেষ করে কার্বন ডাই-অক্সাইড, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের অন্যতম প্রধান কারণ।
মন্ত্রী জানান, জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে পরিবহন খাত থেকে ৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানোর অঙ্গীকার করেছে। সেই লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবেই দেশের অন্তত ৩০ শতাংশ যানবাহনকে ইলেকট্রিক মোটরযানে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইলেকট্রিক যানবাহনের নিবন্ধন ও সড়কে চলাচল সহজ করতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমাতে এবং পরিচ্ছন্ন পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নতুন ইলেকট্রিক বাস আমদানির ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য এসব বাস শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ শুল্কে আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সংসদে সেতুর টোল নিয়ে বিভিন্ন সদস্যের দাবির প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, টোল নির্ধারণ ও আদায় মূলত রাজস্বসংক্রান্ত বিষয়, যা অর্থ বিভাগের অধীন। তাই যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এককভাবে কোনো সেতুর টোল প্রত্যাহার করতে পারে না। তবে ছোট সেতুর ক্ষেত্রে টোল কমানো বা ছাড় দেওয়ার বিষয়টি নীতিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অর্থ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে বিবেচনা করা যেতে পারে।
রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ বাড়ানোর দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে নির্ধারিত নীতিমালা রয়েছে। সব স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেন থামানো হলে এর দ্রুতগতির সেবা ব্যাহত হবে এবং আন্তঃনগর ট্রেন পরিচালনার মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

