ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুটের সময় ওয়ালেদা খাতুন ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে হাত-পা বেঁধে হত্যার ঘটনায় তাঁর নাতিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সাড়ে ১১ টার দিকে পুলিশ সুপার কার্যালয় মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ক্রাইম এন্ড অপস) আনোয়ার হোসেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অফিসার ইনচার্জ (ডিবি) আলমগীর হোসেন পিপিএম,ঘোড়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নিহত ওয়ালেদা খাতুনের ২য় ছেলের ঘরের নাতি ফজলে রাব্বি (২৯), মসফিকুর রহমান রাজ (৩৪) এবং নাজমুল হুদা শান্ত (২৬)।ফজলে রাব্বি ও নাজমুল হুদা শান্ত ঘোড়াঘাট উপজেলার এবং অপরদিকে মসফিকুর রহমান রাজ দিনাজপুর সদরের বাহাদুর বাজার এলাকার বাসিন্দা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ও ঋণে জর্জরিত হয়ে আর্থিক অনটনে ঘোড়াঘাট উপজেলা ডুগডুগি বাজারে গেল মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল ঘটনার দিন সকাল বেলা চুরির পরিকল্পনা করেন তারা। আলোচনা চলাকালীন সময়ে ফজলে রাব্বি জানায় তার ফুফু (বৃদ্ধার ছোট মেয়ে রহিমা) বিদেশে ছিল এবং বিদেশ থেকে এসে তার দাদীর কাছে একসাথে থাকছে। তার দাদীর বাড়ীতে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা পয়সা আছে। দিনের বেলা তার ফুফু ডুগডুগি বাজারে দর্জির দোকানে কাজ করে। বৃদ্ধা ওয়ালেদা খাতুন বাড়িতে একাই থাকেন। এ সময় রাব্বি জানায়, যদি আমরা ধরাও পড়ি তাহলে নিজেদের মধ্যে মিটমাট করে নেওয়া যাবে এবং মার খাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে। পরে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলের কোনো এক সময় তিনজন মিলে ঘরে ঢুকে স্কচটেপ দিয়ে বৃদ্ধা ওয়ালেদা খাতুনের হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর তাকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিনভর জেলা গোয়েন্দা শাখা, সাইবার শাখা ও ঘোড়াঘাট থানা পুলিশের যৌথ অভিযান চালিয়ে ঢাকার আশুলিয়ার গকুর নগর এলাকা থেকে ফজলে রাব্বি ও মসফিকুর রহমান রাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিনে ঘোড়াঘাট উপজেলার দেওগ্রাম এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে নাজমুল হুদা শান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক ভাবে তারা এই হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের কাছ থেকে একটি হার, এক জোড়া বালা, এক জোড়া চেইন, এক জোড়া কানের দুল, এক জোড়া ঝুমকা এবং এক জোড়া রুপার নুপুর উদ্ধার করা হয়েছে।

