মোঃ তৌহিদুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
পুরোনো পন্টুনে জোড়াতালির দীর্ঘ ৯ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে চালু হয়েছে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাট। পন্টুন মেরামত কাজ শেষে ঘাটটি চালু হলেও পুরো নৌরুটে অব্যবস্থাপনার চিত্র এখনো কাটেনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ৭টি ফেরিঘাট থাকলেও গত কয়েকদিন ধরে সচল ছিল মাত্র ২টি ঘাট। ৭ নম্বর ঘাটটি পন্টুন সংস্কারের জন্য বন্ধ থাকায় যাত্রী ও যানবাহন চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় পণ্যবাহী ট্রাক, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনকে।
ঘাট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল থেকে ভাসমান কারখানার মাধ্যমে পন্টুন মেরামতের কাজ শুরু হয়। কাজের ধীরগতির কারণে ঘাটটি চালু হতে সময় লেগেছে ৯ দিন। এ সময়ে মাঝে মধ্যে সীমিত আকারে যানবাহন পারাপার চালু ছিলো বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা কতৃপক্ষ। তবে বেশিরভাগ সময়ই ঘাটটি পুরোপুরি বন্ধ ছিল।
এদিকে ঘাট এলাকায় ঘাট আধুনিকায়ন প্রকল্পেে নতুন নির্মিত কয়েকটি পন্টুন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ঘাট আধুনিকায়ন প্রকল্প থমকে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় এসব পন্টুনে ইতোমধ্যে মরিচা-জং ধরতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কোটি টাকার এসব অবকাঠামো সময়মতো ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে পুরোনো পন্টুনেই জোড়াতালিতে মেরামত করে ঝুঁকি নিয়ে চালানো হচ্ছে ফেরি কার্যক্রম।
গত ২৫ মার্চ ৩ নম্বর ফেরিঘাটে বাস ডুবির ঘটনার পর ঘাটের অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপরও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
যানবাহন চালক ও যাত্রীদের দাবি, অন্তত চারটি ফেরিঘাট সবসময় সচল রাখা জরুরি। একটি ঘাটে সমস্যা দেখা দিলে বিকল্প হিসেবে অন্য ঘাটগুলো চালু থাকলে দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (মেরিন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, পন্টুন মেরামতের কাজ শেষে ৭ নম্বর ঘাটটি চালু করা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে ৫ নম্বর ঘাটটি চালু করার জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে বিষয়টি অবহিত করেছি। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ৫ নম্বর ঘাটটি চালু করা সম্ভব হবে। এবং ঘাট ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার চেষ্টা চলছে।
দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, বর্তমানে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম এবং ৭ নম্বর ঘাটটি চালু হওয়ায় পারাপার আরও স্বাভাবিক হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঘাট আধুনিকায়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন ও কার্যকর তদারকি না হলে ভবিষ্যতে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটে সংকট আরও বাড়তে পারে।

