নুরী আক্তার মুন, ডেস্ক রিপোর্ট :
ফ্যাটি লিভার বর্তমানে একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ফাস্টফুড বা বাইরের খাবারই নয়, বরং ঘরে তৈরি খাবারের অনিয়ন্ত্রিত অভ্যাসও এই রোগের অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে।
চিকিৎসকদের ভাষায়, নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ মূলত জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসজনিত একটি মেটাবলিক রোগ, যা ধীরে ধীরে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার মাধ্যমে তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাজাপোড়া খাবার, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ট্রান্স ফ্যাট এবং পরিশোধিত চিনি লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে লিভার কোষে চর্বি জমতে শুরু করে এবং সময়ের সঙ্গে তা জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ডুবো তেলে বারবার ভাজা খাবার শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ তৈরি করে, যা ফ্যাটি লিভারের অন্যতম প্রধান কারণ। পাশাপাশি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়ে ওজন বৃদ্ধি ও বিপাকজনিত সমস্যাও দেখা দেয়।

এছাড়া অতিরিক্ত চিনি ও ফ্রুক্টোজ সমৃদ্ধ খাবার লিভারে ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ বাড়িয়ে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ায় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের মতে, এই রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। তবে ধীরে ধীরে ক্লান্তি, পেটের ওপরের অংশে অস্বস্তি, ওজন বৃদ্ধি এবং বিপাকীয় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, ভাজা খাবার সীমিত করা, চিনি কমানো, স্বাস্থ্যকর রান্না পদ্ধতি অনুসরণ করা এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা জরুরি। পাশাপাশি লিভার ফাংশন টেস্টসহ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার কথাও বলা হয়েছে।


