ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা ও উন্নত প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত হলেও, দেশটির সবচেয়ে বড় কৌশলগত দুর্বলতা হলো এর ক্ষুদ্র আয়তন। মাত্র ২০,৭৭০ বর্গকিলোমিটারের এই দেশ আয়তনে বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় ৭ গুণ এবং ইরানের চেয়ে ৭৫ গুণ ছোট।
এই ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতাই ইসরায়েলের জন্য ইরানকে এক ভয়াবহ হুমকিতে পরিণত করেছে। আয়তন ছোট হওয়ার কারণে ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনাগুলো একটি নির্দিষ্ট ক্ষুদ্র এলাকায় পুঞ্জীভূত, যা ইরানের মিসাইল আক্রমণের সহজ লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ইরান বা রাশিয়ার মতো বিশাল ল্যান্ডমাস থাকলে ইসরায়েল তার সামরিক শক্তিতে বিকেন্দ্রীকরণ (Decentralization) ঘটাতে পারত, যা যেকোনো আক্রমণ মোকাবিলায় তাদের আরও সুবিধাজনক অবস্থানে রাখত।
এই ভূখণ্ডগত ঘাটতি পূরণ করতেই ইসরায়েল প্রতিটি দ্বন্দ্বে ভূমি দখলের নীতি গ্রহণ করে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার আসাদ সরকারের পতনের সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল গোলান হাইটসের ভেতরে প্রবেশ করে এবং প্রায় ১৭০০ বর্গকিলোমিটার ভূমি নিজেদের দখলে নেয়। একইভাবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি স্থাপন এবং বর্তমানে লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে অনীহা প্রকাশ করার মূল কারণও হলো স্থলসীমা বাড়ানো।
নেতানিয়াহু ইতিমধ্যে লেবাননের কিছু অংশকে অফিশিয়ালি ইসরায়েলের অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যা তাদের ‘নীল নদ থেকে ইউফ্রেটিস’ পর্যন্ত বিস্তৃত তথাকথিত ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ পরিকল্পনারই প্রতিফলন বলে মনে করা হয়। তাদের পতাকায় থাকা দুটি নীল দাগকেও অনেকে এই দুই নদীর প্রতীকী সীমানা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
একটি রাষ্ট্রকে বৈশ্বিক সুপারপাওয়ার বা হেজেমনি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে কেবল প্রযুক্তি বা লবি যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন বিশাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সক্ষমতা এবং উৎপাদন ক্ষমতা। আমেরিকা, চীন, রাশিয়া বা ভারতের মতো শক্তিগুলোর সাফল্যের মূলে রয়েছে তাদের বিশাল ভূখণ্ড। পর্যাপ্ত ভূমি ছাড়া অস্ত্র কারখানা বা বড় উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করে দীর্ঘমেয়াদী স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন অসম্ভব।
তাই ইরান যুদ্ধের ডামাডোলে ইসরায়েল কৌশলে তার ভূমির হিস্যা বুঝে নিচ্ছে। সামরিক আধিপত্যের আড়ালে ভূখণ্ড সম্প্রসারণের এই ক্রমাগত প্রচেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রকে স্থায়ীভাবে বদলে দিচ্ছে এবং ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘এন্ড টাইমস’ বা শেষ জমানার সংকেতগুলোকে আরও ঘনীভূত করছে।

