নিহত মুজিব আলী দত্তগ্রাম এলাকার মৃত অজিব উল্লাহর ছেলে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে,দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় মনু নদ দুই দেশের সীমানা নির্ধারণ করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মুজিব আলীসহ ৬-৭ জন বাংলাদেশি মনু নদ পার হয়ে ১৮৫২ ও ১৮৫৩ নম্বর সীমান্ত পিলারের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে ভারতের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় বিএসএফের একটি টহলদল তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে মুজিব আলী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে আসেন।
বিজিবি ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ শুক্রবার (১২ জুন) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,বিএসএফ নিহতের মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হবে বলে বিএসএফ জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও জনপ্রতিনিধিদের দাবি, মুজিব আলী চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জয়নুল ইসলাম বলেন,স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে তিনি ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় গিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চোরাই মালামাল আনতে গিয়ে বিএসএফের গুলির মুখে পড়েন তিনি।
শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিপা রানী দাস জানান,গুলিবিদ্ধ মুজিবের মরদেহ সীমান্ত থেকে প্রায় ১৫০ গজ ভেতরে ভারতের অংশে পড়ে ছিল। প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিএসএফ সদস্যরা মরদেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবির তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন,গুলিবিদ্ধ হয়ে মুজিব আলীর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

