চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক (প্রকাশ মাসুদ চৌধুরী)। আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে উপজেলার পাহাড়তলি এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহত মাকসুদুল হক রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী এলাকার মৃত খালেদ চৌধুরীর ছেলে এবং বেতাগী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন চৌধুরীর ছোট ভাই।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা আনুমানিক দেড়টার দিকে মাকসুদুল হক পাহাড়তলি বাজারের একটি ওষুধের দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে এসে ৫ থেকে ৭ জনের একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। মাকসুদুলের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক গুলি লাগে। ঘটনার পরপরই অস্ত্রধারীরা অটোরিকশা যোগে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুলিতে ঘটনাস্থলেই মাকসুদুলের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে রাউজান থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়।
যুবদল নেতা মাকসুদুলের হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে এবং ড্রাম ফেলে সড়ক অবরোধ করেন। এছাড়া পাহাড়তলি এলাকাসহ সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। অবরোধের কারণে কাপ্তাই সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুহাম্মদ বেলায়াত হোসেন জানান, “সন্ত্রাসীদের গুলিতে রাঙ্গুনিয়ার বেতাগীর স্বপন চেয়ারম্যানের ছোট ভাই নিহত হয়েছেন। আমরা ঘটনাস্থলে এসে তাঁকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি। এই ঘটনার তদন্ত চলছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”
উল্লেখ্য, রাউজানে মাত্র একদিনের ব্যবধানে আবারও যুবদল কর্মী হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

