‘শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠন, মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রসার’—এই প্রতিপাদ্যে যথাযোগ্য মর্যাদায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি), রংপুরে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ।
রবিবার (৩ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি হেয়াত মামুদ ভবনের সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিডিয়া চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে একই ভবনের দ্বিতীয় তলায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
র্যালিতে অংশগ্রহণ করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তাওফিক বলেন, “সংবাদকে সমাজের দর্পণ বলা হয়। সমাজে যা ঘটে, তা সঠিকভাবে প্রকাশের জন্য মুক্ত গণমাধ্যমের প্রয়োজন। সংবাদকে যদি সেন্সরশিপের আওতায় আনা হয়, তাহলে আর মুক্ত গণমাধ্যমের চর্চা হয় না।
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, “সারা বিশ্বে পেশাজীবী সাংবাদিকদের জন্য মুক্ত ও স্বাধীন পরিবেশ সৃষ্টি করতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য স্বাধীন সাংবাদিকতা অপরিহার্য। যারা সাংবাদিকদের ওপর হুমকি ও নির্যাতন চালায়, তাদের শাস্তির আওতায় আনা সরকারের দায়িত্ব।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তাবিউর রহমান প্রধান বলেন, “রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস প্রতিবছর যে সূচক প্রকাশ করে, সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান গত বছরের তুলনায় তিন ধাপ পিছিয়ে ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫২তম। এটি আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। যেখানে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার কথা, সেখানে আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে এক পক্ষকে দায়ী করলে হবে না। দেশের শাসনব্যবস্থা, গণমাধ্যমের মালিকানা এবং গণমাধ্যমকর্মী—সবারই সম্মিলিতভাবে এই সমস্যা সমাধানে কাজ করা উচিত। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সাংবাদিক হয়রানির বিষয়টি নিরসন সম্ভব।

