আনোয়ার হাসান চৌধুরী, কক্সবাজার :
কক্সবাজার পৌর শহরের টেকপাড়া এলাকায় ছুরিকাঘাতে সানজিদা আক্তার (রেশমি) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ইয়াসমিন হামলার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, নিহত সানজিদা নিয়মিত একটি মুদির দোকান থেকে বাজার করতেন। এক পর্যায়ে ওই দোকানদার শফিউল আলম সওদাগরের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে এলাকায় আলোচনা ছিল।
বিষয়টি জানাজানি হলে শফিউল আলম সওদাগরের স্ত্রী ইয়াসমিনসহ পাঁচ নারী টেকপাড়ায় সানজিদার বাসায় যান। সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সানজিদার ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাকে ছুরিকাঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।
ঘটনার সময় বাসায় থাকা সানজিদার ১২ বছর বয়সী ছেলে সাব্বির চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়রা কয়েকজন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় সানজিদাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার মধ্যরাতে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বাসায় কর্মরত আনোয়ারা বেগম দাবি করেন, সানজিদার সাবেক স্বামী ঠিকাদার ইমন বর্তমানে পেশকারপাড়ার পারভিন আক্তার নামে এক নারীকে বিয়ে করেছেন। ওই নারীর প্ররোচনায় কয়েকজন নারী এসে সানজিদার ওপর হামলা চালায়।
নিহতের ছেলে সাব্বির জানায়, ঘটনার সময় সে ও তার মা বাসায় ছিলেন। এছাড়া শফিউল আলম সওদাগর এবং অপর এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে পাঁচজন নারী এসে তার মায়ের ওপর হামলা চালিয়ে ছুরিকাঘাত করে।
প্রতিবেশী এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত নারীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের আটকে রাখতে সহায়তা করেন। পরে পুলিশ এসে তাদের হেফাজতে নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, নিহত সানজিদার বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বারদোনা এলাকায়। ঘটনার সময় তার কোনো নিকটাত্মীয় পাশে ছিলেন না। প্রতিবেশীরা মানবিক কারণে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নিহতের সাবেক স্বামী ইমন বলেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি আগে কিছুই জানতেন না। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে এসে সাবেক স্ত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনজনকে আটক করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িত অন্যদের শনাক্তে কাজ চলছে।

