আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলায় আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি। মাত্র কয়েকদিন আগে দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হলেও নতুন এই সংঘাতের পর চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে কূটনৈতিক অগ্রগতি বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়তে পারে।সাম্প্রতিক কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানোর দাবি করে।
অন্যদিকে ইরান পাল্টা অভিযোগ করে, যুক্তরাষ্ট্রই যুদ্ধবিরতির পরিবেশ নষ্ট করেছে। তেহরানের দাবি, মার্কিন হামলার জবাবে তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারসহ প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, মাত্র কয়েকদিন আগে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি আদৌ টিকে থাকবে কি না।
গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ওই সমঝোতা স্মারকের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা কমানো, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা এবং ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া।
তবে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে। দুই দেশই এখন একে অপরের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং পারস্পরিক রাজনৈতিক অবিশ্বাস নতুন করে বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ আলোচনা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হলে এই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়তে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এদিকে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি থেমে যায়নি। কাতারের রাজধানী দোহায় মধ্যস্থতার মাধ্যমে দুই পক্ষকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তবে আলোচনার পদ্ধতি নিয়ে এখনো দুই দেশের অবস্থানে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আলোচনার পক্ষে থাকলেও ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে সমঝোতা স্মারকটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল না হলেও এটি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং সামরিক পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করবে দুই দেশের সম্পর্ক আবার আলোচনার পথে ফিরবে, নাকি নতুন করে আরও বড় সংঘাতের দিকে এগোবে।

