আনিসুর রহমান, সাভার প্রতিনিধি:
সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ঘোরাঘুরি করতেন এক অজ্ঞাত পরিচয়ের মানসিক ভারসাম্যহীন নারী। স্থানীয়দের কাছে পরিচিত হলেও তার পরিচয় বা স্বজন সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর করে আসছিলেন স্থানীয় সাংবাদিক নজমুল হুদা শাহীন। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি নিয়মিত ওই নারীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং বিভিন্নভাবে সহায়তার চেষ্টা চালিয়ে যান।
এ বিষয়ে সাংবাদিক নজমুল হুদা শাহীন বলেন, সাভার বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের স্মরণিকা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ওই নারীকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যেত। মানবিক কারণে তিনি ও স্থানীয়রা বিভিন্ন সময় তাকে টাকা-পয়সা দিয়ে সহায়তা করেছেন। তবে মানসিক সমস্যার কারণে তিনি কোথাও স্থায়ীভাবে অবস্থান করতেন না।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গত ২৩ মার্চ বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়-এর নজরে আনতে সক্ষম হন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে সমাজসেবা কার্যালয় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। তিনি আরও বলেন, “স্থানীয়দের সহযোগিতায় সমাজসেবা কার্যালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরে এবং মেয়েটিকে একটি নিরাপদ আশ্রয়ে দিতে সক্ষম হওয়ায় আমি অনেক খুশি।”
সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়েও ওই নারীর কোনো স্বজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে তাকে ‘ভাসমান মানসিক ভারসাম্যহীন নিরাশ্রয় নারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং সাভারের বিরুলিয়া এলাকায় অবস্থিত চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ার আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
এ মানবিক উদ্যোগে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কে এম শহীদুজ্জামান, চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ার কর্ণধর মিল্টন সমাদ্দার, স্থানীয় যুবক আশরাফুলসহ সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উদ্ধার থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসা কুড়িয়েছে। সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

