যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হলেও, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। একদিকে আলোচনার অগ্রগতির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধস নেমেছে, অন্যদিকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
সম্ভাব্য চুক্তির খবরে সোমবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে। বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারে নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ শিথিল হতে পারে—এমন আশাবাদই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় তেলের দাম এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এই চুক্তি নিয়ে নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, চুক্তিটি হয় “চমৎকার ও অর্থবহ” হবে, নয়তো “কোনো চুক্তিই হবে না”। রিপাবলিকান দলের রক্ষণশীল নেতাদের সমালোচনার মুখে থাকা ট্রাম্প এই চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের যুদ্ধাবস্থা থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, অধিকাংশ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গেলেও এখনই চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছে—এমনটা বলার সময় আসেনি। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচির বিস্তারিত বিষয়ে তেহরান এখনো কোনো চূড়ান্ত আলোচনায় পৌঁছায়নি বলে তিনি দাবি করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তিটি চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও এটি কার্যকর করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের আনুষ্ঠানিক সম্মতির প্রয়োজন হবে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের এই সমঝোতাকে বাঁকা চোখে দেখছে ইসরায়েল। দেশটির রাজনীতিবিদদের আশঙ্কা, এই চুক্তি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি সীমিত করতে ব্যর্থ হতে পারে।
লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘর্ষ এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা হওয়ায় চীন এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ সোমবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। দুই দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের অনুমোদন মিললেই কেবল এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের একটি সমাধান আসতে পারে।

