সত্যজিৎ দাস:
পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি তুলে ধরতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শুরু হচ্ছে তিনদিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২’। আজ ১৯ থেকে ২১ জুন উপজেলার ফুলছড়া চা বাগান মাঠে অনুষ্ঠিত হবে এ বর্ণিল আয়োজন।
উৎসবের উদ্বোধন উপলক্ষে দুই দিনের সরকারি সফরে মৌলভীবাজারে আসছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম,এমপি এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত,এমপি। মন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. শফিকুর আলম স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী,শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে তাঁরা ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন। বিকেল ৩টায় শ্রীমঙ্গলের ফুলছড়া চা বাগান মাঠে হারমোনি ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। পরে বিকেল ৪টায় উৎসবের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ এবং বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত,মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ কানিজ মওলা।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্মসচিব) সালেহা বিনতে সিরাজ জানান, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ অঞ্চলের ২৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী উৎসবে অংশগ্রহণ করবে। তারা তাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, জীবনধারা,পোশাক, হস্তশিল্প, খাদ্যসামগ্রী এবং উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন করবে। পাশাপাশি নৃত্য,সংগীত,ধর্মীয় আচার, লোকজ সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনার আয়োজন থাকবে।
তিনি বলেন,এ উৎসবের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের প্রসার এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটনের বিকাশে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন,হারমোনি ফেস্টিভ্যালকে নিয়মিত বার্ষিক আয়োজন হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শ্রীমঙ্গলের পর্যটন সম্ভাবনা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বিস্তৃত হবে। উৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।
উৎসব সফল করতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, শ্রীমঙ্গল পৌরসভা, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, ফিনলে টি, পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
এদিকে সফরের দ্বিতীয় দিন শনিবার (২০ জুন) সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে পর্যটনমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর এয়ারফিল্ড এলাকায় বিমানবন্দর স্থাপনের সম্ভাব্য সুবিধা ও অবকাঠামোগত বিষয়সমূহ সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শন শেষে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার কথা রয়েছে।

