ইতালির রাজধানী রোমে নিজ বাসায় দুর্বৃত্তদের অতর্কিত ও নৃশংস ছুরিকাঘাতে নারী ও শিশুসহ একই বাংলাদেশি পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। এই বর্বরোচিত ঘটনায় পরিবারের আরও এক সদস্য গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার এই অভাগা পরিবারের আদি বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়।
গত শুক্রবার (২৬ জুন ২০২৬) স্থানীয় সময় রাতে রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি (Casalotti) এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ছেলে কামাল উদ্দিন বাবুল (৪০), তাঁর স্ত্রী আরজু বেগম (৩৮) এবং তাঁদের মাত্র পাঁচ বছর বয়সী শিশুকন্যা আরোয়া ইসলাম আরিশা।
এই ঘটনায় তাঁদের ২০ বছর বয়সী বড় ছেলে আমির হোসেন অয়ন গুরুতর আহত হন। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক (Gemelli Polyclinic) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইতালিপ্রবাসী ও নিহত বাবুলের ভাতিজা আফনান হোসেন নাইমের বরাত দিয়ে জানা যায়, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৮টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত বাবুলের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাবুল, তাঁর স্ত্রী ও ছোট মেয়ের ওপর উপর্যুপরি হামলা চালায়।
ঘটনার সময় বড় ছেলে আমির হোসেন অয়ন বাসার বাইরে ছিলেন। তিনি রাতে বাসায় ফিরে রুমে প্রবেশের চেষ্টা করতেই ভেতরে অস্বাভাবিক কিছু একটা টের পান। এ সময় ঘর থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে দুর্বৃত্তরা অয়নকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুকে ও শরীরে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে।
ছুরিকাঘাতের পর অয়নের বুকফাটা চিৎকার ও আর্তনাদ শুনে বহুতল ভবনের প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন। বেগতিক দেখে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় চারজনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কামাল উদ্দিন বাবুল, তাঁর স্ত্রী আরজু বেগম ও শিশুকন্যা আরিশাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অয়ন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
এদিকে সুদূর ইতালির মাটিতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের একই পরিবারের তিনজনকে এভাবে নৃশংসভাবে হত্যার খবরে নিহতের গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে মাতম ও শোকের ছায়া। প্রবাসের মাটিতে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কী এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা উদঘাটনে ইতালির স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ডিটেকটিভ পুলিশ ইতোমধ্যে অ্যাপার্টমেন্টটি সিলগালা করে দিয়ে জোরালো তদন্ত শুরু করেছে।

