ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে দীর্ঘ কয়েকদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শুক্রবার তার জন্মস্থান মাশহাদের ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছে। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই দাফন অনুষ্ঠানকে ঘিরে দেশজুড়ে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একই সময়ে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আয়োজিত শেষকৃত্যে হাজার হাজার শোকাহত মানুষ খামেনির কফিনের সঙ্গে পদযাত্রায় অংশ নেন। অনেকের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা ও প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে লাল পতাকা। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে স্লোগানও শোনা যায়। তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি প্রকাশ্যে উপস্থিত হননি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় আহত হওয়ার কারণে তিনি জনসমক্ষে আসেননি।
খামেনির দাফনের দিনই উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক অবকাঠামো ও কৌশলগত স্থাপনায় নতুন করে বিমান হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অন্যদিকে তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়েছে।
এই সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলেছে এবং কূটনৈতিকভাবে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। কাতার, ওমান, তুরস্ক ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশ দ্রুত যুদ্ধবিরতিতে ফিরে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে। তবে সর্বশেষ হামলা ও পাল্টা হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের আশঙ্কা আবারও জোরালো হয়ে উঠেছে।

