স্ট্রেইট অব হরমুজে চলমান দ্বৈত ব্লকেড এবং পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায় (সেশন-২) যেকোনো মুহূর্তে শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান ‘অপারেশন ইপিক ফিউরি’ দিয়ে শুরু হয় ইরান যুদ্ধ। এতে ইরানের সামরিক স্থাপনা, পারমাণবিক সাইট ও কমান্ড সেন্টারে ব্যাপক হামলা চালানো হয়।
ইরান পাল্টা আঘাত করে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে। ৭-৮ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সরাসরি আলোচনা ব্যর্থ হয়। এরপর ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দর ও জাহাজের ওপর নৌব্লকেড আরোপ করে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে দ্বৈত ব্লকেড চলছে। ইরান প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানি পোর্টে যাওয়া জাহাজ আটকাচ্ছে। ফলে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ না করা পর্যন্ত ব্লকেড চলবে এবং এটি মাসের পর মাস চলতে পারে।
ইরান সম্প্রতি পাকিস্তানের মাধ্যমে প্রস্তাব দিয়েছে—হরমুজ খুলে দিতে রাজি, যদি যুক্তরাষ্ট্র ব্লকেড তুলে নেয় এবং যুদ্ধ শেষ করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলছে, যেকোনো চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
পেন্টাগন ইরানের হরমুজ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন করে আঘাত হানার পরিকল্পনা তৈরি করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, সামরিক অপশন সবসময় টেবিলে আছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ব্লকেড চলতে থাকলে “অভূতপূর্ব” প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান অচলাবস্থা ভাঙতে না পারলে যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এতে এশিয়ার এনার্জি নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, হরমুজের পর স্ট্রেইট অব মালাক্কায়ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা চীনসহ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য বড় ধাক্কা।
বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে, কিন্তু উভয় পক্ষই অনড় অবস্থানে। যেকোনো ভুল বোঝাবুঝিতে বড় যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে যেকোন সময়ে।

