যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে মতবিরোধকে কেন্দ্র করে। নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিলেও তেহরান এতে রাজি হয়নি।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় উভয় পক্ষ একাধিক প্রস্তাব বিনিময় করলেও চুক্তির মেয়াদ ও শর্ত নিয়ে বড় ধরনের দূরত্ব থেকে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি স্থগিতাদেশে অনড় অবস্থানের কারণে সমঝোতা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ইয়ান ব্রেমারের মতে, শেষ পর্যন্ত সীমিত মেয়াদের একটি সমঝোতার সম্ভাবনা এখনো রয়েছে।
প্রায় এক দশকের বেশি সময় পর এটিই দুই দেশের প্রথম উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
সূত্রগুলো জানায়, বৈঠকে পারমাণবিক ইস্যুর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠক ইসলামাবাদের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থার ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরেন। তার অভিযোগ, পূর্ববর্তী কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় দেওয়া কিছু প্রতিশ্রুতি পরে ভঙ্গ করা হয়েছে, যা নতুন আলোচনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
আলোচনায় প্রায় ৮০ শতাংশ অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং চুক্তির কাঠামো নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বৈঠকে বিরতি ঘোষণা করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সক্ষমতা না পায়, অন্যদিকে তেহরানের প্রধান উদ্বেগ হলো ওয়াশিংটনের ওপর আস্থার অভাব।
সব মিলিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা না হলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে একটি সম্ভাব্য চুক্তির দরজা এখনো খোলা রয়েছে।

