২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর সোমবার (২৯ জুন) নিজ দেশে ফিরছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। দলীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তিহুয়ানা থেকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ইরানের জন্য রওনা দেবে দলটি।
বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জি’-তে ইরান তিনটি ম্যাচেই ড্র করে ৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করে। নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং মিশরের বিপক্ষে সমতা নিয়েও শেষ পর্যন্ত নকআউট পর্বে জায়গা করে নিতে পারেনি তারা। আটটি সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলের তালিকায় মাত্র দুই গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় শেষ ৩২-এর টিকিট হাতছাড়া হয়।
তবে ইরানের এবারের বিশ্বকাপ অভিযান মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল মাঠের বাইরের নানা জটিলতা নিয়ে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার কারণে দলের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেয়া হয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার পরিবর্তে দলটি তাদের বেস ক্যাম্প সরিয়ে নেয় মেক্সিকোর তিহুয়ানায় এবং প্রতিটি ম্যাচ খেলতে সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করতে হয়।
এছাড়া যাতায়াতের কঠোর বিধিনিষেধ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে ইরান। প্রথম দুটি ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রে পর্যাপ্ত সময় অবস্থানের অনুমতি না পাওয়ায় অনুশীলন ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কোচ এবং খেলোয়াড়রা। শেষ ম্যাচের আগে কিছুটা ছাড় দেওয়া হলেও ম্যাচ শেষেই আবার দ্রুত মেক্সিকোতে ফিরে যেতে হয় দলটিকে।
মিশরের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করার পর অধিনায়ক মেহদি তারেমি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “এটি ছিল একটি দুর্যোগের বিশ্বকাপ।” তিনি অভিযোগ করেন, টুর্নামেন্ট জুড়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও ভ্রমণসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে ফিফা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, কঠিন রাজনৈতিক ও লজিস্টিক পরিস্থিতির মধ্যেও ইরান লড়াই করে গেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা এবং গোল ব্যবধানের কারণে তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় গ্রুপ পর্বেই। এখন দেশে ফিরে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ও দল পুনর্গঠনের দিকেই নজর দেবে ‘টিম মেল্লি’

