আজ পহেলা বৈশাখ। ঋতুচক্রের আবর্তে আবারও ফিরে এলো বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ। চৈত্র সংক্রান্তির বিদায়ী ঘণ্টা আর ঐতিহ্যবাহী হালখাতার আমেজ পেরিয়ে আজ ভোরের সূর্যোদয়ের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হলো ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের। নতুন বছর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বরাবরের মতোই বর্ষবরণের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল রমনার বটমূলে ছায়ানটের শিল্পীদের সম্মিলিত পরিবেশনা। ‘শান্তি, মানবতা ও সম্প্রীতি’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই ছায়ানটের শিল্পীরা গান ও কবিতার মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানান। হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে রমনা এলাকা হয়ে ওঠে একখণ্ড বাঙালিয়ানা।
পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে বড় আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এবারের শোভাযাত্রার মূল বার্তা হচ্ছে—অশুভ শক্তির বিনাশ এবং কল্যাণময় আগামীর পথে যাত্রা। লোকজ ঐতিহ্যকে ধারণ করে এবারের শোভাযাত্রায় পাঁচটি বিশেষ মোটিফ স্থান পেয়েছে:
মোরগ (শক্তি)
বেহালা (সৃজন)
পায়রা (শান্তি)
হাতি (গৌরব)
বাঁশ, কাঠ ও রঙিন কাগজে তৈরি বিশাল বাঘ, হাতি ও মা-শিশুর প্রতিকৃতি শোভাযাত্রাকে দিয়েছে অনন্য মাত্রা। ২০০ জন শিক্ষার্থীর হাতে থাকা জাতীয় পতাকা এবং ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্রশিল্পীর সুরের মূর্ছনায় জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ গানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজপথ।
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী তোপখানা রোডে দিনব্যাপী আড্ডা, গান ও কবিতার মাধ্যমে বর্ষবরণ করছে। তাদের এবারের প্রতিপাদ্য—‘বৈশাখের রুদ্র-রোষে ধ্বংস হোক সামাজিক ফ্যাসিবাদ।’ এছাড়া শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদ্যাপন করছে।
নববর্ষের এই শুভ দিনে দেশের কৃষকদের জন্য নতুন উপহার নিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ‘কৃষি কার্ড’-এর উদ্বোধন করবেন, যা কৃষি খাতে আধুনিকায়ন ও কৃষকদের সহায়তা প্রাপ্তিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পহেলা বৈশাখের সার্বজনীন উৎসবে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও র্যাব বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। উৎসবস্থলগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে শুরু হলো নতুন একটি বছর।

