মাহবুবুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা:
কনফারেন্স অ্যান্ড এক্সিবিশন ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস (সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ) এর আয়োজনে বিগত ১৮ বছরের ধারাবাহিকতায় রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় আজ বৃহস্পতিবার থেকে চলছে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অটোমোটিভ বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘১৯তম ঢাকা অটো সিরিজ অব এক্সিবিশন্স ২০২৬’।
অটো সিরিজ অব এক্সিবিশন্স বাংলাদেশের অধীনে একই সাথে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘১৯তম ঢাকা মোটর শো ২০২৬’, ‘১০ম ঢাকা বাইক শো ২০২৬’, ‘৯ম ঢাকা অটো পার্টস শো ২০২৬’, ‘৮ম ঢাকা কমার্শিয়াল অটোমোটিভ শো ২০২৬’ এবং ‘৩য় ইলেকট্রিক ভেইকল (ইভি) বাংলাদেশ এক্সপো ২০২৬’।
‘১৯তম ঢাকা অটো সিরিজ অব এক্সিবিশন্স ২০২৬’ এর এবারের আয়োজনে জাপান, ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ ১০টি দেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ড, ৭০টিরও বেশি কোম্পানি, ২০০টি বুথ নিয়ে অংশগ্রহণ করছে। প্রদর্শনীতে মিতসুবিশি, টয়োটা, মার্সিডিজ বেঞ্জ, হুন্ডা, এমজি, প্রোটন, চাঙ্গান, গ্যাক মোটরস, ডংফেন প্রভৃতি ব্র্যান্ডের নতুন মডেলের গাড়ি প্রদর্শিত হচ্ছে। এছাড়া, টু-হুইলার ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে আছে জিহো বাংলাদেশ, সিএফ মটো বাংলাদেশ, লংজিয়া, ভিমোটো প্রভৃতি। বাণিজ্যিক যানের মধ্যে আছে ফোটন, ফোরল্যান্ড প্রভৃতি। প্রদর্শনীতে আরো রয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের মোটর পার্টস এবং বৈদ্যুতিক যান তথা ইলেকট্রিক ভেইকল (ইভি)।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, মেহেরুন এন. ইসলাম, প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর, সেমস-গ্লোবাল (ইউএসএ অ্যান্ড এশিয়া প্যাসিফিক)। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম.এ. কামাল বিল্লাহ; ড. অনুপম সাহা (যুগ্ম-সচিব), পরিচালক, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি); বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এর মহাপরিচালক গাজী এ কে এম ফজলুল হক এবং জাবেদ আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব (অব.), বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান সেমস-গ্লোবাল (ইউএসএ অ্যান্ড এশিয়া প্যাসিফিক) এর প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেহেরুন এন. ইসলাম বলেন, চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থা এবং ক্রমবর্ধমান প্রচলিত জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বিকল্প জ্বালানি উৎসের ব্যবহার ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে, ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি) বা বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার যেমন বাড়ছে, তেমনি এই খাতে নতুন ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহারও গুরুত্ব পাচ্ছে। কাজেই আমাদের প্রদর্শনীসমূহ বর্তমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট খাতে নতুনমাত্রা যোগ করবে বলে আমরা আশাবাদী। এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীসমূহ প্রচলিত অটোমোটিভ শিল্পকে যেমন এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে, তেমনি নতুন বিকল্প প্রযুক্তি ও সমাধান গ্রহণেও সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতকে সহায়তা করবে।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান সেমস-গ্লোবাল সূত্রে আরো জানা যায়, ‘১৯তম ঢাকা অটো সিরিজ অব এক্সিবিশন্স ২০২৬’ এর আওতাধীন ঢাকা মোটর শো, ঢাকা বাইক শো এবং তৎসংশ্লিষ্ট প্রদর্শনীসমূহ মোটরপ্রেমী এবং অটো শিল্প ব্যবসার ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য একটি ওয়ান স্টপ প্লাটফর্ম। এতে বৈশ্বিক পরিসরে পারস্পরিক জ্ঞান ও প্রযুক্তি আদান-প্রদানের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি বাংলাদেশের মোটর, বাইক, যানবাহন, মোটর স্পোর্টস এবং ইলেকট্রিক ভেইকল (ইভি) সংশ্লিষ্ট খাতের অগ্রগতিতে প্রদর্শনীসমূহ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
ঢাকা মোটর শো বাংলাদেশের মোটর, বাইক ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশের তথা অটোমোটিভ শিল্পের সবচেয়ে বড় ও একমাত্র আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী; যা এ শিল্পের জন্য অত্যাধুনিক এবং নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শনের একটি ওয়ান-স্টপ প্ল্যাটফর্ম যেখানে ক্রেতা, দর্শক ও উদ্যোক্তাগণ ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি, যন্ত্রাংশ, আনুষঙ্গিক উপকরণ ও নিত্য নতুন প্রযুক্তির সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক অটোমোটিভ টু-হুইলার প্রদর্শনী ঢাকা বাইক শো। এ প্রদর্শনীতে থাকছে মোটরসাইকেল, স্কুটারস, ইজি বাইক, হালকা বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ। যা সংশ্লিষ্ট পণ্যসমূহের বাজারকে ক্রম প্রসারিত করতে ভূমিকা পালন করছে। ঢাকা কমার্শিয়াল অটোমোটিভ শো বাংলাদেশের বাণিজ্যিক যানবাহন শিল্পের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী। যা বাংলাদেশে বাণিজ্যিক গাড়ির উৎপাদন, বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ঢাকা অটোপার্টস শো বাংলাদেশের একমাত্র বৃহত্তম আন্তর্জাতিক গাড়ি এবং অটো কম্পোনেন্ট প্রদর্শনী। এটি অটোকম্পোনেন্ট এবং অটোমোবাইল প্রযুক্তির নতুন-নতুন মডেল উপস্থাপন করার জন্য বিশ্বব্যাপী সমাদৃত অটো-কম্পোনেন্ট ব্যবসার একটি চমৎকার প্লাটফর্ম।
২৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রদর্শনীটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত সেমস-গ্লোবাল বিগত তিন দশকে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৭৬২টিরও বেশি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী সফলভাবে আয়োজন করেছে। এসব আয়োজনে অংশ নিয়েছে ৫৫ হাজারের বেশি প্রদর্শক প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ২০ লাখ ব্যবসায়িক দর্শনার্থী। সেমস-গ্লোবাল-এর ফ্ল্যাগশিপ প্রদর্শনীসমূহের মধ্যে রয়েছে টেক্সটাইল সিরিজ, পাওয়ার সিরিজ, বিল্ড সিরিজ, ফুড অ্যান্ড এগ্রো এক্সপো, মেডিটেক্স এবং অটো সিরিজ।

