অ আ আবীর আকাশ,লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
তীব্র গরমের মধ্যে লক্ষ্মীপুর জেলায় ভয়াবহ লোডশেডিং পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন যেমন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, তেমনি সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। পড়াশোনার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় তারা চরম উদ্বেগ ও মানসিক চাপে দিন কাটাচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা—লক্ষ্মীপুর সদর, রামগঞ্জ, রামগতি, কমলনগর ও রায়পুর—সবখানেই বিদ্যুৎ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। অনেক এলাকায় দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। কখনো নির্ধারিত সময় ছাড়াই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, আবার কখন আসবে তারও কোনো নির্দিষ্টতা নেই।
এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “দিনে গরমে পড়া যায় না, রাতে পড়তে বসলে বারবার বিদ্যুৎ চলে যায়।
মোমবাতি বা চার্জলাইটে বেশি সময় পড়া সম্ভব হয় না। পরীক্ষার আগে এমন পরিস্থিতিতে খুব কষ্ট হচ্ছে।”
আরেক পরীক্ষার্থী মাহিম হোসেন জানায়, “প্রতিদিন পরীক্ষার আগে রাতে ভালোভাবে রিভিশন দিতে পারছি না। এতে আত্মবিশ্বাস কমে যাচ্ছে। অনেক সময় গরমে ঘুমাতেও পারছি না।”
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও এই পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন। তারা বলছেন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই পরীক্ষার ওপর, অথচ এমন সময়ে বিদ্যুৎ সংকট তাদের পড়াশোনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনেকেই বাধ্য হয়ে জেনারেটর বা বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন, যা সবার পক্ষে সম্ভব নয়।
লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্থিতি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে তারা ঠিকমতো প্রস্তুতি নিতে পারছে না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।”
এদিকে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষও লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ না থাকায় কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। গরমে নষ্ট হচ্ছে খাদ্যপণ্য, বাড়ছে দুর্ভোগ।
স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়া এবং চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চেষ্টা চলছে এবং ধীরে ধীরে লোডশেডিং কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু আশ্বাসে নয়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে অন্তত পরীক্ষার সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের জন্য এটি এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লোডশেডিংয়ের এই দুর্ভোগ কাটিয়ে তারা যেন স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দিতে পারে, সে জন্য দ্রুত সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছে

