আব্দুর রাজ্জাক, জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
গতকাল শনিবার (৬ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্ষেতলাল উপজেলার নিশ্চিন্তা বাজার এলাকায় মারধরের এই ঘটনা ঘটে।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার নিশ্চিন্তা এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের হাতে এক বাসের হেলপার মারধরের শিকার ও চালক লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে জয়পুরহাট প্রধান বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ক্ষুব্ধ পরিবহন শ্রমিকরা।
পরে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে দুপুর ২টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বাস সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে জয়পুরহাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ‘শ্যামলী পরিবহন’ এর একটি বাস বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্ষেতলালের নিশ্চিন্তা এলাকায় পৌঁছালে বিজিবি সদস্যরা সেটিকে থামার সংকেত (সিগন্যাল) দেন। সামনে কিছুটা যানজট থাকায় বাসটি সংকেতের স্থান থেকে সামান্য সামনে এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিজিবির কয়েকজন সদস্য এসে বাসের হেলপার সাদ্দাম হোসেনকে মারধর শুরু করেন। এ সময় বাসের চালক (ড্রাইভার) তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও লাঞ্ছিত করা হয়।
পরবর্তীতে বাসটি জয়পুরহাট টার্মিনালে পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীরা বিষয়টি শ্রমিক নেতাদের জানান। এর পরিপ্রক্ষিতে ক্ষুব্ধ পরিবহন শ্রমিকরা বাস ও বিভিন্ন যানবাহন আড়াআড়ি করে রেখে জয়পুরহাট প্রধান বাসস্ট্যান্ড এলাকার প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। সড়ক অবরোধের কারণে চারপাশের সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং তীব্র গরমের মধ্যে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
উক্ত আলোচনা ও সমঝোতার সময় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নূরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( সদর সার্কেল) আরিফ হোসেন, জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম, জয়পুরহাট জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি গোলাম মর্তুজা শিপলু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক উম্মত আলী হিম্মত, দপ্তর সম্পাদক এম এ হেলান সহ অন্যান্য শ্রমিক নেতৃবৃন্দরা।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে তারা বিক্ষুব্ধ শ্রমিক নেতাদের সাথে আলোচনা করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। প্রশাসনের আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে বেলা ২টার দিকে শ্রমিকরা ব্যানার সরিয়ে নিয়ে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপরই ওই রুটে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।

