কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামে ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি দ্রুত কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এসব নদীর পানি ৩০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত নেমেছে। তবে উজানের ঢল ও বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
পানি কমতে শুরু করলেও বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। নিম্নাঞ্চলের অনেক এলাকায় পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা সড়ক পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হচ্ছে।
এদিকে বন্যার পানিতে জেলার প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির পাট, আমনের বীজতলা, সবজি ও অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। একই সঙ্গে পানি কমা-বাড়ার মধ্যেই জেলার বিভিন্ন নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩৫টি পয়েন্টে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কৃষি বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের পরিমাণ নিরূপণের কাজ করছে। পানি আরও নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানানো যাবে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ নদীর পানি কমলেও আগামী দুই দিনের মধ্যে আবারও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

