আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশালঃ
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর বরিশাল কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন রাজিব আহসান। মঙ্গলবার সকালে পূর্বঘোষণা ছাড়াই সংস্থাটির বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় একাধিক দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি ধরা পড়লে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
সকাল প্রায় সোয়া ৯টার দিকে বরিশাল নৌবন্দরে পৌঁছে প্রতিমন্ত্রী বিআইডব্লিউটিএর অধীনস্থ চারটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর পরিদর্শন করেন। তিনি বিভিন্ন কার্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি হাজিরা খাতা পরীক্ষা করেন। বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে ছুটি ও অন্যান্য কারণ দেখানো হয়।
পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী অভ্যন্তরীণ জাহাজ জরিপ পরিদর্শকের কার্যালয়, ড্রেজার বিভাগ এবং রেস্টহাউস ‘হিমনীড়’ ঘুরে দেখেন। তাঁর আকস্মিক সফরে দপ্তরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কোথাও দপ্তরপ্রধান উপস্থিত থাকলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নৌপথে যাত্রী নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সরকারের তদারকির অংশ হিসেবে এ ঝটিকা পরিদর্শন পরিচালনা করা হয়। বিশেষ করে ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন রোধে মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি যাচাই করতেই প্রতিমন্ত্রীর এ সফর।
বরিশাল নৌবন্দর কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, প্রতিমন্ত্রী বিআইডব্লিউটিএর সব দপ্তরের সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে এসেছেন। এটি ছিল হঠাৎ পরিদর্শন, যার বিষয়ে আগে কোনো ঘোষণা ছিল না।
বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক সোলায়মান হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষে কোনোভাবেই নৌকায় করে যাত্রী লঞ্চে ওঠানো যাবে না—এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে লঞ্চে ডিজিটাল ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন নিশ্চিত করা এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান ভবন নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কেও খোঁজ নেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে বলেন, “আমি যা দেখেছি, আপনারাও একই জিনিস দেখেছেন।” অনুপস্থিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু না বললেও ভবিষ্যতেও এ ধরনের আকস্মিক পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে বলে জানান।

