সত্যজিৎ দাস:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাইক্রোবাস চালকদের মধ্যে সামান্য ধাক্কাকে কেন্দ্র করে দুই শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরতলীর শাহজীবাজার এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি মাইক্রোবাসের মধ্যে সামান্য ধাক্কা লাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই চালকের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে উভয় পক্ষের শ্রমিকরা ঘটনাস্থলে জড়ো হলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে সংঘর্ষ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ১৬ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন আমজাদ হোসেন বাচ্চু (৪৯), ইসমাইল মাহমুদ (৫৭), এহসানুল হক (৩৪), উজ্জ্বল কুমার দাশ (৪৪), নূর মোহাম্মদ সাগর (৩৩), মো. আল আমিন (৩০), রাব্বি (২২), আউয়ুব আলী (৪০), বিশাল (২২), শওকত (৪৪), রাকিব (১৯), বিল্লাল মিয়া (৩২), চয়ন মিয়া (৩৮) ও আমির মিয়া (২৪)। আরও দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন আমজাদ হোসেন বাচ্চু, ইসমাইল মাহমুদ, এহসান বিন মুজাহিদ, এসকে দাশ সুমন, নূর মোহাম্মদ সাগর ও মো. আলামিন।
গুরুতর আহত আমজাদ হোসেন বাচ্চু,বিশাল, আউয়ুব আলী, রাব্বি ও শওকতসহ কয়েকজনকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, আহত ১৬ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের অধিকাংশের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের জেরে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন,বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা জানান, অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসের ধাক্কাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন,যারা এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহতদের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পরে বিকেলে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্যের উদ্যোগে উভয় পক্ষের নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ালে শহরের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

